অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা (২): সদস্য ম্যানেজমেন্ট
সিরিজঅ্যাক্টিভিস্ট ম্যানুয়াল: অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাপর্ব ২/৮
- •অ্যাক্টিভিস্ট ম্যানুয়াল: অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা
- ১.অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা (১): পরিকল্পনা
- ২.অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা (২): সদস্য ম্যানেজমেন্ট
- ৩.অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা (৩): কর্মসূচি
- ৪.অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা (৪): রিপোর্টিং ও মিটিং
- ৫.অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা (৫): পাঠচক্র
- ৬.অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা (৬): ফান্ড ম্যানেজমেন্ট
- ৭.অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা (৭): নমুনা ফরম্যাট: রিপোর্ট ও মিটিং
- ৮.অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা (৮): নমুনা ফরম্যাট: সদস্য ও পাঠচক্র

একটি অ্যাক্টিভিস্ট ইউনিটকে সফল করতে হলে শুধু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলেই চলে না; সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একদল নিবেদিতপ্রাণ সদস্যও প্রয়োজন। আপনার তৈরি করা বাৎসরিক, ষাণ্মাসিক বা মাসিক পরিকল্পনাগুলো তখনই সার্থক হবে, যখন আপনার ইউনিটে থাকবে সঠিক মানুষ। একটি অ্যাক্টিভিস্ট ইউনিটকে শক্তিশালী, বড় এবং ধারাবাহিক রাখতে হলে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং তাদের ধরে রাখা অপরিহার্য। মানুষ সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে, এবং তাদের সাথে কার্যকরভাবে যুক্ত হতে হলে তাদের এই বৈশিষ্ট্যগুলো বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন ধরনের মানুষ
একটি ইউনিটের সাথে মানুষের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে তাদের কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
১. যারা আমাদের সাথে নেই
- শত্রু: এরা সরাসরি আমাদের কাজের বিরোধী এবং ক্ষতি করার চেষ্টা করে।
- বিরোধী: এরা আমাদের কাজের বিরোধিতা করলেও সক্রিয়ভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করে না।
- নিউট্রাল: এরা আমাদের কাজের প্রতি সমর্থন বা বিরোধিতা কোনোটাই করে না।
২. যারা আমাদের সমর্থন করে
- ডোনার: এরা সরাসরি কাজ না করলেও অর্থ, রসদ বা অন্যান্য সম্পদ দিয়ে আমাদের কার্যক্রমকে সহায়তা করে।
৩. যারা সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করে
শ্রেণি | দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ব | ধারাবাহিকতা ও আনুগত্য | ভিশন |
|---|---|---|---|
মুয়াফিক | খুব বেশি দায়িত্বশীল নয় | অধারাবাহিক, কিন্তু আস্থাশীল | ভিশনারি নয় |
মুনতাসিব | কাজে আগ্রহী ও দায়িত্বশীল, কিন্তু পুরোপুরি দায়বদ্ধ নয় | ধারাবাহিক, পূর্ণ আনুগত্যশীল হওয়ার পথে | ভিশনারি হওয়ার পথে |
অ্যাক্টিভিস্ট | পূর্ণ দায়বদ্ধ ও দায়িত্বশীল | ধারাবাহিক, পূর্ণ আনুগত্যশীল | ভিশনারি |
বিস্তারিত শ্রেণিবিভাগ
মুয়াফিক
- সাধারণ বৈশিষ্ট্য: মূলত ছাত্র, তরুণ যুবক , তবে সমাজের যেকোনো শ্রেণি-পেশার (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, রিকশাওয়ালা, দিনমজুর, বস্তিবাসী) মানুষ হতে পারে। এরা হয়তো নিয়মিত প্র্যাক্টিসিং নয়, তবে আল্লাহর দ্বীন ও রাসূলকে ﷺ ভালোবাসে।
- কার্যক্রম: ইউনিটের সব কার্যক্রমে নিয়মিত যুক্ত হতে পারে না, তবে বিশেষ করে ক্যাম্পেইনে উপস্থিত থাকে। সাহায্য চাইলে সাধ্যমতো চেষ্টা করে।
- প্রভাব: এরা ইউনিটের প্রতি আস্থাশীল এবং প্রয়োজনে সহায়তা করে।
মুনতাসিব
- সাধারণ বৈশিষ্ট্য: প্র্যাক্টিসিং, অন্তত প্রকাশ্যে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত নয়।
- কার্যক্রম: অধিকাংশ ডাকে সাড়া দেয় এবং নিয়মিত পাঠচক্রে বসে। এরা ইউনিটের মূল ওয়ার্কফোর্স এবং অ্যাক্টিভিস্টদের কাজকে গতিশীল ও টেকসই রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত অর্থ সহায়তাও দিয়ে থাকে।
অ্যাক্টিভিস্ট
- সাধারণ বৈশিষ্ট্য: সাধারণত ছাত্র বা তরুণ বয়সের হয়ে থাকে। এরা প্র্যাক্টিসিং এবং প্রকাশ্যে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত নয়।
- কার্যক্রম: এরা ইউনিট পরিচালনা করে এবং অ্যাক্টিভিজমকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। তারা নিজেরা কাজ করার পাশাপাশি মুয়াফিক ও মুনতাসিবদের দিয়েও কাজ করিয়ে নেয়।
- ভূমিকা: এরা ইউনিটের মূল দায়িত্বশীল গ্রুপ, যারা ইউনিটকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়।
এই ভিন্ন ধরনের সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন সঠিক দাওয়াহ কৌশল । পরবর্তী অংশে আমরা দেখব, কীভাবে বিভিন্ন ধরনের মানুষকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দাওয়াহর মাধ্যমে ইউনিটের সাথে যুক্ত করা যায়
দাওয়াহ এবং সদস্য সংগ্রহ: মানুষের কাছে পৌঁছানো
একটি ইউনিটকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু মানুষের ধরন চিনলেই হবে না, বরং তাদের কাছে পৌঁছানোর কৌশলও জানতে হবে। আপনার ইউনিটের প্রাণশক্তি হলো এর সদস্যরা, আর তাদের কাছে পৌঁছানোর প্রথম ধাপ হলো কার্যকর দাওয়াহ। এখন আমরা দেখব, কীভাবে বিভিন্ন ধরনের মানুষকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দাওয়াহর মাধ্যমে ইউনিটের সাথে যুক্ত করা যায়।
আপনার কাছে নতুন মানুষ আসবে মূলত চারটি প্রধান উপায়ে:
- ক্যাম্পেইন ও রিক্রুটমেন্ট: বিভিন্ন ক্যাম্পেইন বা ইভেন্টের মাধ্যমে আগ্রহী মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছানো।
- টার্গেটেড পাঠচক্র: নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে লক্ষ্য করে তাদের উপযোগী বিষয়বস্তু নিয়ে পাঠচক্র পরিচালনা করা।
- ওয়ান-টু-ওয়ান দাওয়াহ: ব্যক্তিগত পর্যায়ে সরাসরি দাওয়াহ’র মাধ্যমে অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত করা।
- কো-কারিকুলার কার্যক্রম: ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সফরের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা।
দাওয়াহর বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি
মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যার সমাধানে ইসলামের আলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়া, এবং টার্গেটেড অডিয়েন্সের ধীরে ধীরে ইউনিটের সাথে যুক্ত করা। আলোচনা শুরু হবে জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় দিয়ে, এবং শ্রোতার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে পরকাল, তাওহীদ, ও নবী-রাসূলদের (আঃ) জীবনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। মনে রাখুন আমাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে 'শুক্রবারের মুসল্লি' থেকে 'ফজরের মুসল্লি' হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করা। এজন্য ব্যক্তির অবস্থানের উপর ভিত্তি করে আলোচনার বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
১. ছাত্র ও তরুণ প্রজন্ম
- স্কুল পর্যায়: টিনেজ ক্রাইসিস (প্রেম, স্ক্রিন আসক্তি), পড়াশোনা, খেলাধুলা, ব্যায়াম, এবং নবী-রাসূল ও সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গল্প নিয়ে আলোচনা। এক্ষেত্রে 'ষোলো ম্যাগাজিন', 'আকাশের ওপারে আকাশ (লস্ট মডেস্টি)' বা 'তুমি ফিরবে বলে (জাকারিয়া মাসুদ)' ধরনের বইয়ের বিষয়বস্তু ব্যবহার করা যেতে পারে।
- কলেজ পর্যায়: বিভিন্ন আসক্তি, টিনেজ ক্রাইসিস, পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও ব্যায়াম এবং নবী-রাসূল ও সাহাবীদের গল্প নিয়ে আলোচনা। 'ষোলো ম্যাগাজিন', 'মুক্ত বাতাসের খোঁজে (লস্ট মডেস্টি)', 'আকাশের ওপারে আকাশ' বা 'তুমি ফিরবে বলে' ধরনের বইয়ের টপিকগুলো কাজে লাগতে পারে।
- ভার্সিটি ও গ্র্যাজুয়েট তরুণ: হতাশা, মাদকাসক্তি, আত্মহত্যা, ক্যাম্পাসের সংকট, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, এবং 'মুক্ত বাতাসের খোঁজে' বা 'আকাশের ওপারে আকাশ'-এর মতো বইয়ের বিষয়বস্তু এবং নবী-রাসূল ও সাহাবীদের গল্প নিয়ে আলোচনা। এছাড়া 'জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট', 'ভারত বিরোধিতা', '৭১ প্রশ্ন', 'অস্তিত্বের হুমকি', 'সেকুল্যারিজম', 'নারীবাদ' ও ইসলাম সম্পর্কিত বিভিন্ন সংশয়ের জবাব ('চিন্তাপরাধ', 'সংশয়বাদী' বা 'অবক্ষয়কাল' ধরনের বইয়ের আলোকে) নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
২. বয়স্ক ও অভিভাবক শ্রেণি
- বিষয়বস্তু: বৃদ্ধাশ্রম, সন্তানের মাদকাসক্তি, হতাশা ও স্ক্রিন আসক্তি, নৈতিক অবক্ষয়, জেনা-ব্যভিচার, অশ্লীলতা এবং বড়-ছোটর প্রতি সম্মানের অভাব। পাঠ্যপুস্তকে সমকামিতা ও অশ্লীলতার মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে।
৩. সবার জন্য
- নিজ কওমের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা যেতে পারে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে
- এই দাওয়াহ পদ্ধতিগুলো খুবই প্রাথমিক। ব্যক্তিগত পর্যায়ে দাওয়াহর আরও অনেক উন্নত পদ্ধতি ও বই আছে। সেটা নিয়ে আলাদা ম্যানুয়ালে আলোচনা করা হবে ইনশা আল্লাহ।
- অ্যাক্টিভিজমের মাধ্যমে কিভাবে দাওয়াহ করা হবে সেটা নিয়ে ভিন্ন আলোচনা করা হবে
- আপনার সম্পর্কে যেন শুরুতেই এই ধারণা তৈরি না হয় যে আপনি শুধু 'সবকিছু হারাম' বলেন।
- মানুষ যেন আপনাকে তাদের কাছের মানুষ মনে করে, যাতে বিপদে পড়লে আল্লাহর পরে আপনার কথা তাদের সবার আগে মনে হয়।
এইভাবে টার্গেটেড দাওয়াহর মাধ্যমে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি এবং তাদের ইউনিটের সাথে যুক্ত করতে পারি। কিন্তু এই কাজের সফলতা কেবল বাহ্যিক কৌশলের ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে আপনার ভেতরের মানসিকতার ওপর।
কনভার্সন মেন্টালিটি
আপনার মধ্যে সবসময় 'কনভার্সন মেন্টালিটি' বা 'রূপান্তরের মানসিকতা' থাকতে হবে। এর অর্থ হলো, আপনাকে ক্রমাগত এই চিন্তা করতে হবে যে
- আমি আমার দৈনন্দিন কাজগুলোর মাধ্যমে কীভাবে অ্যাক্টিভিজমের কাজে সাহায্য করতে পারি?
- আমার জীবনের প্রতিটি সময় এবং সুযোগকে কীভাবে অ্যাক্টিভিজমের কাজে ব্যয় করতে পারি?
- যাদের সাথে আমার ওঠাবসা, তাদের কীভাবে এই মহান কাজে যুক্ত করতে পারি?
একটি অ্যাক্টিভিস্ট ইউনিটকে কার্যকর করতে হলে শুধু নতুন সদস্য সংগ্রহই যথেষ্ট নয়, তাদের ধরে রাখা এবং তাদের সুপ্ত সম্ভাবনাগুলোকে বিকশিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিয়েই আমাদের পরবর্তী অংশের আলোচনা-
সদস্যদের ধরে রাখা ও তাদের বিকাশ ঘটানোর কৌশল
আপনার কাছে প্রতিটি সদস্যই একটি আমানত, যাদের সর্বোচ্চ যোগত্যা বের করে আনা আপনার দায়িত্ব। কিন্তু প্রায়শই দেখা যায়, নানা কারণে সদস্যরা মাঝপথে ঝরে পড়ে বা তাদের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয় না।
কেন সদস্যরা ঝরে যায় বা উন্নতি করতে পারে না?
সদস্যদের ঝরে পড়ার কিছু সাধারণ কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
- কাজ না দেওয়া: সদস্যরা কাজে যুক্ত হতে এসে যদি নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে তারা হতাশ হয়ে পড়বে।
- ভুল কাজ দেওয়া: একজন সদস্যের যোগ্যতা ও আগ্রহের সাথে সামঞ্জস্যহীন কাজ দিলে সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
- গুরুত্ব না দেওয়া (ফলোআপের অভাব): নতুন সদস্যদের উপেক্ষা করা, তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন না করা বা ফিডব্যাক না দেওয়া তাদের নিজেদের গুরুত্বহীন মনে করাতে পারে।
- লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অস্পষ্ট থাকা: অ্যাক্টিভিজমের লক্ষ্য যদি পরিষ্কার না থাকে, তাহলে সদস্যরা তাদের কাজের গুরুত্ব বুঝতে পারে না।
- প্রত্যাশামতো ফলাফল না দেখা: যদি ইউনিট সদস্যরা দ্রুত কোনো বড় সাফল্য দেখতে না পায়, তাহলে তারা আগ্রহ হারাতে পারে।
- বার্ন আউট বা মানসিক অবসাদ: অতিরিক্ত কাজের চাপ বা বিশ্রামহীনতা সদস্যদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে।
- ক্যারিয়ার-অ্যাক্টিভিজম ভারসাম্যহীনতা: অ্যাক্টিভিজমে বেশি সময় দেওয়ার কারণে যদি ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাহলে সদস্যরা সরে যেতে পারে।
- গ্রুপিং, নেতৃত্বের লোভ, হিংসা ও বিদ্বেষ: অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নোংরা রাজনীতি একটি ইউনিটের প্রাণশক্তি নষ্ট করে দেয়।
- সাময়িক বিরতি থেকে হারিয়ে যাওয়া: পরীক্ষা, পারিবারিক ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে সাময়িক বিরতি নিলে অনেক সদস্যের সঙ্গে আর যোগাযোগ থাকে না।
- সেলিব্রিটি হওয়ার ফিতনাহ: খ্যাতির মোহে পড়া বা নিজেকে জাহির করার মানসিকতা ইউনিটের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে।
- কোরবানির মানসিকতার অভাব: ত্যাগ ও কোরবানির মানসিকতা না থাকলে কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকা কঠিন।
- টিমওয়ার্কের অভাব: দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা না থাকলে ইউনিট দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন না করা: প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন না করলে সদস্যরা তাদের কাজ বা উদ্দেশ্যের গভীরতা বুঝতে পারে না, ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। পাশাপাশি অ্যাক্টিভিজমের কাজও ইহসানের সাথে করতে পারে না।
- তত্ত্ব ও কর্মের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা: শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করা কিন্তু ময়দানে কাজ না করা, অথবা শুধু ময়দানে কাজ করা কিন্তু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন না করা-উভয় ক্ষেত্রেই সদস্যরা একপেশে মানসিকতার অধিকারী হয়ে পড়ে। ফলে তাদের সামগ্রিক উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
সমাধান
উপরোক্ত সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:
কাজের সঠিক বণ্টন
দায়িত্বশীলদের নিজেদের কাজ কমিয়ে সদস্যদের মাঝে কাজ ভাগ করে দিতে হবে। পুরোনো এবং অভিজ্ঞ সদস্যরা নতুনদের তত্তাবধান করবেন। নতুন সদস্যরা কাজে ভুল করবে, কিন্তু ভুল করা থেকে তাদের শিখতে দিতে হবে। কাজ নিখুঁতভাবে হতে হবে, কোনো ভুল হওয়া যাবে না এটা অ্যাক্টিভিজমের মূল লক্ষ্য নয়। বরং মূল লক্ষ্য হলো কাজ সম্পন্ন হওয়া এবং বেশি বেশি মানুষকে কাজের সাথে যুক্ত করা। বিশেষ করে, লিফলেট বিতরণ বা পোস্টার লাগানোর মতো কাজগুলো নতুনদের দিয়ে করানো উচিত, কারণ এর মাধ্যমে তারা প্রকাশ্যে নিজেদেরকে ইউনিটের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই তাদের মধ্যে অ্যাক্টিভিজমের প্রতি টান তৈরি হবে।
যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ
সদস্যদের হতাশ হওয়া থেকে বাঁচাতে তাদের যোগ্যতা খুঁজে বের করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী দায়িত্ব দিতে হবে। একজন সদস্যের দক্ষতা ও আগ্রহের সাথে মানানসই কাজ দিলে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করবে।
গুরুত্ব ও ফলোআপ
নতুন বা কম যোগ্যতাসম্পন্ন বলে কাউকে অবহেলা করা যাবে না। তাদের কাজের প্রশংসা করতে হবে এবং গঠনমূলক ফিডব্যাক দিতে হবে। কোনো ভুল করলে কঠোর কথা বা ঠাট্টা না করে বরং আন্তরিকতার সাথে ভুল ধরিয়ে দিতে হবে। নতুনদের ইউনিটের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও আন্তরিক সদস্যদের তত্ত্বাবধানে কাজ শেখার সুযোগ করে দিন। আপনার ইউনিট যে তাদের আন্তরিকভাবে মূল্যায়ন করে, এটি তাদের বোঝাতে হবে।
উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করা
অ্যাক্টিভিজমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শুরুতেই পরিষ্কার করে দিতে হবে। সদস্যদের বুঝতে সাহায্য করতে হবে যে তাদের ছোট ছোট কাজগুলো কীভাবে বড় লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখে। মাঝে মাঝে কিছু সাফল্য উদযাপন করে তাদের মনোবল ধরে রাখুন।
প্রত্যাশার সাথে বাস্তবতা মিলিয়ে দিন
অনেকেই প্রত্যাশা করেন অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত হলেই দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য দেখা যাবে। এই ভুল ধারণা দূর করা প্রয়োজন। প্রথমেই অ্যাক্টিভিজমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিন। সদস্যদের বোঝান যে এটি কোনো স্প্রিন্ট নয়, বরং একটি ম্যারাথন—ফলাফল আসতে সময় লাগবে। স্পষ্ট করে দিন যে শুধু অ্যাক্টিভিজমের মাধ্যমেই শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
লোড ম্যানেজমেন্ট
অতিরিক্ত কাজের চাপে সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত (বার্ন আউট) হতে পারে। তাই, লোড ম্যানেজমেন্ট করুন, অর্থাৎ কাজগুলো সবার মধ্যে সঠিকভাবে ভাগ করে দিন। কোনো একজনের উপর যেন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। মাঝে মাঝে তাদের ছুটি ও বিনোদনের সুযোগ দিন, যেমন খেলাধুলা বা ঘুরতে যাওয়া। তাদের মোবাইল ব্যবহার কমাতে এবং প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে উৎসাহিত করুন।
ভারসাম্য রক্ষা
অ্যাক্টিভিজম একটি ম্যারাথন রেস, স্প্রিন্ট নয়। সদস্যদের বোঝাতে হবে যে অ্যাক্টিভিজমের পাশাপাশি তাদের পেশাগত বা পারিবারিক জীবনের দায়িত্বগুলোও পালন করা জরুরি। অনেকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিজেদের পড়াশোনা বা পেশার ক্ষতি করে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। পরীক্ষা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ছুটি নিতে উৎসাহিত দিন এবং জীবন ধারণের জন্য ন্যূনতম অর্থ উপার্জন যে প্রয়োজন, তা বোঝান। রিযিকের কনসেপ্ট সঠিকভাবে তুলে ধরুন। পরীক্ষা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ছুটি নিতে উৎসাহিত দিন এবং অন্যান্য সময়েও যেন পড়াশোনায় অলসতা না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
বিরতিকালীন সময়ে যোগাযোগ রক্ষা : পরীক্ষা, বিয়ে বা পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সদস্য কাজ থেকে সাময়িক বিরতি নেয়।বিরতির সময়ও তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করুন। তাদের খোঁজখবর রাখুন।
কোরবানির দৃষ্টান্ত পেশ করুন: ত্যাগ ও কোরবানির মানসিকতা না থাকলে এই পথে টিকে থাকা কঠিন। অ্যাক্টিভিজমের সাথে কোরবানি যে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, তা স্পষ্ট করে দিন। ইতিহাস থেকে, বিশেষ করে নেতৃবৃন্দের, কোরবানির দৃষ্টান্ত বারবার সামনে আনুন।
গ্রুপিং, নেতৃত্বের লোভ ও সেলিব্রিটি হওয়ার মোহ থেকে সুরক্ষা
গ্রুপিং, নেতৃত্বের লোভ, বা সেলিব্রিটি হওয়ার মতো প্রবণতা একটি ইউনিটের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যারা বেশি কথা বলে, নেতৃত্বের লোভ করে, খ্যাতি চায়, গিবত করে, বা লেনদেনে দুর্বল, যারা ক্রেডিটলোভী-তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। যাদের মধ্যে এই সমস্যাগুলো আছে, তাদের চিহ্নিত করুন এবং ধারাবাহিকভাবে তাদের তাযকিয়া ও তারবিয়া (আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণ) নিশ্চিত করুন।
জ্ঞান ও কাজের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা
সদস্যরা যেন একপেশে না হয়ে পড়ে, সেজন্য জ্ঞানার্জন ও ব্যবহারিক কাজের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এই কাজটি দক্ষতার সাথে করতে হলে আপনাকে দুটি দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে:
- জ্ঞানার্জনের ব্যবস্থা: সদস্যদের জন্য নিয়মিত পাঠচক্র, ওয়ার্কশপ ও হালাকার আয়োজন করুন। এসব আয়োজনে এমন বিষয়বস্তু নির্বাচন করুন, যা তাদের তত্ত্বীয় জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে। শুধু “দ্বীনি” নয়, বরং ফিকহুল ওয়াকী, অ্যাক্টিভিজম, নেতৃত্ব, ম্যানেজমেন্ট, অর্গানাইজিং, নেটওয়ার্কিং, নেগোশিয়েশনস,কমিউনিকেশন স্কিলস, টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং জীবনমুখী বিভিন্ন দক্ষতার ওপরও সেশন পরিচালনা করতে হবে।
- অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত করা: সদস্যরা যেন তাদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য তাদের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত করুন। তাদের বোঝান, জ্ঞান অর্জনের মূল উদ্দেশ্য হলো তা কর্মে পরিণত করা এবং এর মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো।
এই দুটি কার্যক্রমকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে দেখা উচিত। কেবল জ্ঞানার্জনে মনোযোগ দিলে সদস্যরা তাত্ত্বিক হয়ে পড়বে, আর কেবল ময়দানের কাজে মনোযোগ দিলে তাদের কাজ লক্ষ্যহীন ও দুর্বল হবে। তাই, জ্ঞানকে কাজের সাথে এবং কাজকে জ্ঞানের সাথে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং কার্যকর ইউনিট গঠন করুন।
সদস্যদের ব্যক্তিগত পরিচর্যা
একটি সফল ইউনিটের জন্য প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত উন্নতি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এই কাজটি দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রতিটি সদস্যের জন্য একটি আলাদা পরিকল্পনা থাকা উচিত। এই পরিকল্পনায় তাদের
- আমলী
- অ্যাক্টিভিজম ও
- ক্যারিয়ারের
উন্নতির দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে তাদের দৈনন্দিন রুটিনও ঠিক করে দেওয়া যেতে পারে। এই কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য আপনাকে প্রতিটি সদস্যকে ভালোভাবে জানতে হবে, তাদের সাথে মিশতে হবে এবং আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। মনে রাখুন, ফেসবুক পোস্ট, বই লেখা বা সেমিনার করে সেলিব্রিটি হওয়ার চেয়ে এই কাজ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য একজন ডেডিকেটেড ক্যাডার সেক্রেটারি নিয়োগ করা যেতে পারে। তার প্রধান দায়িত্ব হবে সদস্যদের ধারাবাহিক উন্নতি, বিকাশ এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।
সদস্য ডেটাবেইস
ক্যাডার সেক্রেটারি প্রতিটি সদস্যের জন্য একটি বিস্তারিত ডেটাবেইস তৈরি করবেন। এই ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- প্রতিভা ও সম্ভাবনা, দোষ ও গুণ
- আনুগত্যের অবস্থা ও ব্যক্তিত্বের ধরন
- মানসিক ও শারীরিক শক্তি
- সম্পন্ন করা কোর্স ও যোগ্যতার বিবরণ
- যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য কি কি করা দরকার
- আগের দায়িত্বসমূহ
- ইউনিট তাকে ভবিষ্যতে কোন অবস্থানে দেখতে চায়
- পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থা
- পরিবারকেন্দ্রিক কোনো সমস্যা যা অ্যাক্টিভিজম থেকে দূরে সরাতে পারে
- ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজনের বিবরণ
এই ডেটাবেইস নিয়মিত আপডেট রাখতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই সদস্যদের জন্য পরিকল্পনা সাজাতে হবে। যেহেতু এগুলো খুবই সংবেদনশীল তথ্য, তাই দায়িত্বশীল ছাড়া অন্য কারো কাছে এই ফাইল যাওয়া যাবে না। সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য যেকোনোমূল্যে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সদস্যদের ডেটাবেইস এবং অগ্রগতি রিপোর্টের নমুনা পরিশিষ্ট-২ এ যুক্ত করা হলো।
শাস্তি ও পুরস্কারের ভারসাম্য
সদস্যদের সাথে আপনার আচরণ হতে হবে স্নেহ ও কঠোরতার মিশেল। তাদের ভালোবাসা, স্নেহ, পুরস্কার ও প্রশংসা দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। একই সাথে, যদি তারা নিজেরা আলসেমি করে বা ইউনিটের ক্ষতি করে, তবে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে সদস্যদের আনুগত্য, বয়স, ব্যক্তিত্ব ও বোঝার ক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি। রাগের মাথায় কাউকে কোনো শাস্তি বা কটূ কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। নতুন সদস্যদের সাথে কঠোর হওয়া যাবে না, বরং কোমলভাবে তাদের ভুল ধরিয়ে দিতে হবে। মনে রাখুন, আপনি তাদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করলেও আপনি তাদের বন্ধু নন; পেশাদারিত্ব বজায় রাখা আবশ্যক।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা
- এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে অনেক মানুষ এলেও কাজ করার মানুষ কম থাকবে। বড় বড় ইউনিটেও হাতেগোনা কিছু মানুষই কাজ করে।
- আপনার কাজ মানুষকে নিয়ে, তাই তাদের অন্তর থেকে ভালোবাসুন। তারা যেন এমনটা মনে না করে যে আপনি তাদের ইউনিটের কাজে ব্যবহার করছেন। বিস্তারিত দেখুন এই লেখায়- সামাজিক শক্তি অর্জনের জন্য মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা
- বিপদে তাদের পাশে থাকুন, খোঁজখবর রাখুন, মানসিক সমর্থন দিন এবং প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাও করুন। এমন সম্পর্ক তৈরি করুন যেন তারা আপনার কাছে কিছু না লুকায়।
- নন-প্র্যাক্টিসিং বা জাহেল ব্যক্তিরা আপনার টার্গেট। তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে বিভিন্ন কাজে যুক্ত করুন। তবে মনে রাখবেন, ইউনিটের মূল নেতৃত্ব সবসময় প্র্যাক্টিসিং সদস্যদের হাতেই থাকবে।
- ইগো পরিহার করে নিজের চেয়ে দ্বীনকে প্রাধান্য দিন। নেতা হিসেবে নিজেকে 'খাদেম' বা সেবক মনে করুন।
- সদস্যদের কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা (যেমন: টাকা ধার) নেবেন না।
- সদস্যদের মধ্যে বিবাদ হলে উভয় পক্ষের কথা শুনে তারপর সিদ্ধান্ত নিন। তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করুন।
- সর্বোপরি, আবারও মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে—নন-প্র্যাক্টিসিংদের বিভিন্ন কাজে যুক্ত করবেন, কিন্তু ইউনিটের নেতৃত্ব থাকবে প্র্যাক্টিসিং সদস্যদের হাতে।
ইউনিটকে টেকসইকরণ, সদস্য সংগ্রহন, সদস্যদের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও বিকাশ সংক্রান্ত কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন একটি সুসংহত কর্মসূচী । পরবর্তী অংশে আমরা একটি কার্যকরী কর্মসূচীর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করব।

