Activism Lab

কারা হবে আমাদের শক্তি

এনামুল হোসাইন শাওন
লক্ষ্যভেদী বোর্ডের ঠিক মাঝখানে বিঁধে থাকা লাল ডার্ট

সামাজিক শক্তি অর্জনের মাধ্যম হলো অ্যাক্টিভিজম। যেকোনো সফল অ্যাক্টিভিজমের প্রথম ধাপ হলো তার টার্গেটেড অডিয়েন্স বা কাদেরকে টার্গেট করে অ্যাক্টিভিজম পরিচালিত হবে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা। এই লেখায় আমরা প্রমাণসহ দেখব কারা হবে আমাদের ইসলামিক সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজমের মূল লক্ষ্য। একই সাথে আমরা আলোচনা করব, কীভাবে এই বিশাল জনশক্তিকে কার্যকরভাবে সংগঠিত করা যায় এবং কী ধরনের ইস্যু নিয়ে কাজ করলে সেই উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব।

শুরুতে আমরা পেছনের আলোচনাটা আর একবার স্ম্বরণ করে নেই। আমাদের অ্যাক্টিভিজমের লক্ষ্য কী?

-সামাজিক শক্তি অর্জন করা।

- সামাজিক শক্তি কী?

  • আমি যা চাই তা অন্য কোনো গোষ্ঠীর কাছ থেকে আদায় করে নেবার ক্ষমতা
  • চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের কোনো লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা
  • পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারা
  • সমাজে প্রভাব থাকা
  • চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা থাকা
  • এবং এরকম আরও যত ক্ষমতা আছে সবগুলোর সমষ্টি

সামাজিক শক্তি অর্জনের জন্য কি দরকার?

জনশক্তি

এখন এখানেই আমাদের মূল প্রশ্ন এসে উপস্থিত হয়। সামাজিক শক্তি অর্জনের জন্য কোন জনশক্তি দরকার?

দেখুন আমাদের অর্থ, জনবল, সময়, সামর্থ্য সীমিত। তাই এ সীমিতি সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের এমন জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে অ্যাক্টিভিজম পরিচালিত করতে হবে যারা সমাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। যারা সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে মূলত গুরুত্ব দেওয়া হয়—

  • নন-প্র্যাকটিসিং জেনারেলদেরকে
  • শিক্ষিত জেনারেল মধ্যবিত্ত
  • যারা সমাজের “মূলধারা”
  • বিশেষ করে জেনারেল শিক্ষিত ছাত্র

এরা যে আসলেই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে বা সমাজ এদেরকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয় এর কোনো প্রমাণ কি আছে?

প্রমাণ

  • ৫২, ৬৯, ৭১, ৭৫, ৯০, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন, জুলাই আন্দোলনসহ সবক্ষেত্রে জেনারেল শিক্ষিত ছাত্ররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের অধিকাংশই ছিল নন-প্র্যাকটিসিং। যদিও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে প্র্যাকটিসিংদের বেশ ভালো ভূমিকা ছিল।
  • ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আলিম-উলামা, ত্বলিবুল ইলমসহ প্র্যাকটিসিং মুসলিমদের ওপর শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালায়। ৪০০+ রাসূল প্রেমিক মুসলিমদের নির্মমভাবে হত্যা এবং লাশ গুম করা হয়। ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে ২০ এর অধিক মুসলিমকে খুন করা হয়, আলিম-উলামাদের গণহারে নির্যাতন করা হয়, কারাগারে পাঠানো হয়। মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি কাজী ইবরাহীমের মতো সম্মানিত ও জনপ্রিয় আলিমদেরকেও গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়। মূলধারার সমাজ এ ঘটনাগুলোয় তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
  • কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় নন-প্র্যাকটিসিং জেনারেল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ছাত্রদের উপর আক্রমণ করা হলে পুরো দেশ রাস্তায় নেমে পড়ে এমনকি ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে পর্যন্ত আন্দোলন হয়েছে।

কাজেই আমাদের দরকার—

নন প্র্যাক্টিসিং জেনারেল শিক্ষিত স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির শিক্ষার্থী ( সংক্ষেপে তাদেরকে আমরা শুক্রবারের মুসল্লি বলতে পারি )। তারা হয়তো নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে না, গান-বাজনা শোনেন, নাটক-সিনেমা দেখে এবং ইসলামের কিছু বিধি-বিধান সঠিকভাবে মেনে চলে না। তারা শরীয়াসম্মত অন্য কোনো দ্বীনি মেহনতে জড়িতে নেই কিন্তু তাদের হৃদয়ে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা বিদ্যমান। এই ভালোবাসা তাঁদের অন্তরের এমন এক সম্পদ, যা তাঁদেরকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করে রাখে। এই শ্রেণীর মানুষেরাই অ্যাক্টিভিজমের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান টার্গেট। সাহায্যকারী জনশক্তি হিসেবে টার্গেট করতে হবে সমাজের জেনারেল ব্যাকগ্রাউন্ডের (শুক্রবারের মুসল্লী) মানুষদের।

একটি বিষয় খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। যারা শরীয়াসম্মত অন্য কোনো দ্বীনি কাজে জড়িত তাঁরা আমাদের টার্গেটেড অডিয়েন্স না। তাঁরা আলহামদুলিল্লাহ ইতিমধ্যেই দ্বীনের খেদমত করছেন। আল্লাহ্‌ তাঁদের কাজ কবুল করে নিক। কাজে বারাকাহ দান করুন। সবাইকেই দ্বীনের অন্যান্যসব কাজ ফেলে অ্যাক্টিভিজম করতে হবে এটি ভুল ধারণা। আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে সমাজের সেই অংশ, যারা এখনো দ্বীনের কোনো কাজে সম্পৃক্ত হননি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা প্রায়শই এক্ষেত্রে ভুল করে ফেলি।

আমাদের সমাজকে মোটামুটি তিনভাগে ভাগ করা যায়—আদর্শিক সেকুলার-বামপন্থী (৫%), নন-প্র্যাক্টিসিং শুক্রবারের মুসল্লী (৯০%), এবং প্র্যাক্টিসিং মুসলিম (৫%)। আমাদের শ্রম, সময়,মনোযোগ ও অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়, হয় সেকুলার-বামপন্থীদের মোকাবিলায়, নয়তো অল্পসংখ্যক প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের কেন্দ্র করে পরিচালিত কাজে। অথচ সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠি, সেই ৯০% শুক্রবাদের মুসলিমদের দিকে কার্যকর মনোযোগই দেওয়া হয় না।

এটা অনেকটা এমন, আপনি যদি ভালো আম কিনতে চান তবে যেখানে আমের দোকান সবচেয়ে বেশি, সেখানেই যেতে হবে। কারণ দোকান বেশি মানে বিকল্প বেশি, সেখান থেকে মানসম্মত ফল বেছে নেওয়ার সুযোগও বেশি। তেমনি পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুঁজতে হলে আমাদের মনোযোগ রাখতে হবে সেই বৃহত্তম জনগোষ্ঠির দিকে, যেখানে সামান্য মেহনতেই অসাধারণ ফল পাওয়া সম্ভব।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা অল্পসংখ্যক জায়গায় অতিরিক্ত শ্রম দিচ্ছি, আর যেখানে বিশাল সম্ভাবনা সেখানে একেবারেই মনোযোগ দিচ্ছি না। এটা কি কেবল বোকামি, নাকি গভীর অজ্ঞতা?

জনশক্তি কিভাবে তৈরি করা হবে?

টার্গেটেড অডিয়েন্স কারা এটা বোঝার পর আমাদের সামনে প্রশ্ন এসে দাঁড়ায় এই জনশক্তি কিভাবে তৈরি করা হবে? কিভাবে তাদেরকে আমরা আমাদের সংগে যুক্ত করব? কোনো জনগোষ্ঠিকে প্রভাবিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাদের জীবনের সমস্যার সমাধান করা। অধিকাংশ মানুষ তাত্ত্বিক বা বিমূর্ত আলাপ দ্বারা খুব কমই অনুপ্রাণিত হয়; তারা চায় সমস্যার বাস্তব, চোখে দেখা সমাধান। তাই জনগণের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ইস্যু, তাদের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ সমস্যা- এসব মোকাবিলাতেই জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব।

বাস্তবতা হলো, আমরা ইসলামপন্থীরা প্রায়শই শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু “দ্বীনি” বিষয়ে যাই—এটা হারাম, ওটা হারাম বলে সতর্ক করি। কিন্তু তাদের চারপাশের বাস্তব সমস্যা—হলের পানির সংকট, আবাসনের সমস্যা, ডাইনিংয়ে নষ্ট খাবার, র‍্যাগিং ইত্যাদি নিয়ে কার্যকর কোনো অবস্থান আমাদের নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা দেখে, বামপন্থী বা সেকুলার সংগঠন অন্তত এসব বিষয়ে পাশে দাঁড়ায়, কিন্তু ইসলামপন্থীরা থাকে নীরব।

এ কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ইসলামপন্থীদের ওপর ভরসা করে না। আমাদের ডাকা কোনো আন্দোলনে তারা আস্থা পায় না। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো দেশেই একই বাস্তবতা বিদ্যমান। জাতির বৃহত্তর সংকটে ইসলামপন্থীরা কখনো নেতৃত্ব দিতে পারেনি, কোনো একক আন্দোলন সফল করতে পারেনি।

আমাদের আগে বুঝতে হবে—“দ্বীনি” বিষয় আর “দুনিয়াবি” বিষয় বলে আলাদা কোনো শ্রেণীবিন্যাস ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়। হলের পানির সমস্যা বা ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোও ইসলামের শিক্ষা। তাই এই ভুল ধারণা ভাঙতে হবে।

এখনই বদলে যাবার সময়। এখন না হলে কখন? আমরা না হলে কারা? সাধারণ ছাত্রদের কণ্ঠস্বর হতে হবে, তাদের যে কোনো বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে। এমন আস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা সমস্যায় পড়লে স্বাভাবিকভাবেই আমাদেরকে মনে করে, আমাদের কাছে আসে।

আমাদের ভাবমূর্তি বদলাতে হবে। সাধারণ মানুষেরা যেন আমাদের দেখলেই “হুজুর”, “ক্ষ্যাত”, “শুধুই হারাম-হারাম করে”, বা “রিএকশনারি” এমন মনে না করে। প্রকৃত জনশক্তি গড়ে তুলতে হলে আমাদের এমন জীবনঘনিষ্ঠ ইস্যু নিয়ে কাজ করতে হবে যা (১) বাস্তবিকভাবে জরুরি, (২) অধিকাংশ মানুষকে প্রভাবিত করে। মানুষের জীবনের কঙ্ক্রিট সমস্যার সমাধেন পাশে দাঁড়াতে হবে। তাহলে তারা আস্থা ও নেতৃত্ব দুটোই আমাদের হাতে তুলে দেবে ইনশা আল্লাহ্‌ । এবং প্রকৃত অর্থে জনশক্তি তৈরি হবে।

কেইস স্টাডি: Lost Modesty ক্যাম্পেইন (২০১৮–১৯)

বাংলাদেশে ইসলামিক সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজমের বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছিল Lost Modesty—এন্টি-পর্ন ক্যাম্পেইন। সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষ, এমনকি আওয়ামী লীগের এমপি ও নেতারাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ উদ্যোগকে সমর্থন করেছিল। মাত্র এক বছরের মধ্যেই ক্যাম্পেইনটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ ছিল সহজ—পর্নোগ্রাফির সমস্যা ঘরে ঘরে। এ সমস্যা সবাইকে প্রভাবিত করছিল। তাই সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ক্যাম্পেইনে যোগ দেয়। আল্লাহর ইচ্ছায় অসংখ্য মানুষের জীবন পরিবর্তিত হয়, এবং দেশে ইসলামিক সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজমের সূচনাও হয়।

মিলিয়ে নিন

  • যে ইস্যু সবার জীবনে প্রভাব ফেলে, সেটাই জনশক্তি ও জনসমর্থন গঠনের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
  • জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যার সমাধান দিতে পারলে ইসলামপন্থীদের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়।

কেইস স্টাডি: জুলাই আন্দোলন

আওয়ামী জাহেলিয়াতের শোষণ, বঞ্চনা,নির্যাতন ও গনহত্যার কারণে সাধারণ মানুষ অসন্তোষে ফুঁসে উঠেছিল। এই বাস্তবতাই মানুষকে রাজপথে নামতে বাধ্য করে। নাহিদ-আসিফ-হাসনাতদের নেতৃত্ব তখন সর্বাত্মক জনসমর্থন ও সহযোগিতা পায়।

মিলিয়ে নিন

  • যখন একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠি একই সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তারা সহজেই একত্রিত হয়।
  • নেতৃত্ব তখনই কার্যকর হয়, যখন তা জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে।

তাহলে এখন প্রশ্ন আসে আমরা জীবনঘনিষ্ঠ কোন কোন ইস্যুতে কাজ করব?

আমাদের সমাজ নানা ধরনের সংকটে জর্জরিত। একদিকে সামাজিক অবক্ষয়—পর্নোগ্রাফি, হারাম সম্পর্ক, বিয়ে কঠিন করে ফেলা, জিনা-ব্যভিচার, গর্ভপাত, হতাশা, আত্মহত্যা, স্ক্রিন আসক্তি, বৃদ্ধাশ্রম, সমকামিতার মতো ইস্যু দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে বাড়ছে ইসলাম বিদ্বেষ, এবং ছাত্রসমাজের জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ যেমন বেকারত্ব, ক্যারিয়ার সংকট, হল ও ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সমস্যা। একইসাথে রয়েছে বৃহত্তর উম্মাহর ইস্যু—ইসরায়েলি পণ্য বয়কট, শাতিম বিরোধী আন্দোলন, ভারতের আগ্রাসন, গণহত্যার বিচার, ইসলাম বনাম সেকুলারিজমের দ্বন্দ্ব, কিংবা কলকাতাকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আগ্রাসন।

এখন প্রশ্ন হলো—এই সমস্যাগুলোর সমাধান করার পেছনে আমাদের আসল উদ্দেশ্য কী? যদি কেবল সমস্যার সমাধান করাই উদ্দেশ্য হয়, তবে সেটা একটি সেবামূলক কাজ হয়ে থাকবে। কিন্তু ইসলামি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজমের লক্ষ্য কেবল সেবা নয়—জনশক্তি তৈরি। তাই প্রতিটি সমস্যার সমাধান আমাদের এমনভাবে করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ আমাদের প্রতি আস্থা পায়, নেতৃত্ব মেনে নেয়, এবং সংগঠিত শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

অতএব, সমস্যার সমাধান মানে শুধু সমাধান নয়; বরং সেটাই জনশক্তি তৈরির হাতিয়ার।

শেয়ার করুনFacebookWhatsAppMessenger

সম্পর্কিত লেখা