সামাজিক শক্তি অর্জনের ব্যাপারে কিছু বিষয় পরিষ্কার করে নেয়া দরকার

এক.
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামপন্থীরা সমাজে কোণঠাসা; আমাদের সংখ্যা যত বেশিই হোক না কেন। সেইসঙ্গে আমাদের নিজেদের মধ্যে ভয়ঙ্কর রকমের দলান্ধতা রয়েছে। আমরা উম্মাহ কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা এখনো করতে পারছি না সবাই। এমন পরিস্থিতিতে আমরা আসলে অনেক কিছু চাইলেও করতে পারি না। খাতা-কলমে অনেক কিছুই করে ফেলা যায়। কিন্তু বাস্তবতা আসলে কঠিন। সামাজিক শক্তি অর্জনের জন্য দেশব্যাপী ক্যাম্পেইনের ব্যাপারে আমরা ২০১৮ সাল থেকে আলোচনা করছি। বিভিন্ন সময়ে ভাইয়েরা অনেক সুন্দর সুন্দর পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করা, দলমত নির্বিশেষে সবাই একতাবদ্ধ হওয়া, সেন্ট্রাল কমান্ড ইত্যাদি। এগুলো যেকোনো সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করার জন্য জরুরি। তবে আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব কিছু করার সক্ষমতা আছে কিনা?
১। আমরা কি সবাই দলমত নির্বিশেষে একতাবদ্ধ হতে পারব?
২। একটা সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে সবাই থাকার জন্য প্রস্তুত? সেই সাংগঠনিক মন মেজাজ রয়েছে?
৩। সেই সেন্ট্রাল কমান্ডে কারা কারা থাকবেন? আলেম উলামাগণ থাকবেন- এমন জেনারালাইজড উত্তর না। স্পেসিফিক উত্তর- সর্বজন শ্রদ্ধেয় অমুক আলেম থাকবেন, অমুক যোগ্য আলেম রাজি হয়েছেন- এমন উত্তর আমাদের কাছে আছে?
৪। কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা ইত্যাদির জনবল কি আমাদের আছে?
অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে এসব ব্যাপারে আমরা পিছিয়ে আছি। এগুলো সবই দরকার। কিন্তু আমাদের হাতে নেই। এবং আমাদের ভুখন্ডের অধিবাসীদের একটি মানসিকতা হলো আমরা যে কাজের জন্য ১/২ জন লোক দরকার তার জন্য অনেক আয়োজন করি।
১০/১২ সদস্যের কমিটি করি। বহু পরিকল্পনা করি। কিন্তু দিনশেষে কিছুই করি না। এই সম্ভাবনা আছে যে আমরা শুধু এই ৪ টা উপাদান অর্জনের চেষ্টা করেই যাচ্ছি করেই যাচ্ছি… কিন্তু ময়দানে আর নামা হচ্ছে না।
আপনি এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়বেন। এজন্য আপনি ক্লাস ফাইভের বাচ্চাকে ক্লাস নাইন টেনের পদার্থ বিজ্ঞানের বই ধরিয়ে দেবেন না। তাকে ক্লাস ফাইভের বইয়ের বিজ্ঞান পড়াবেন। এরপর ধাপে ধাপে সে বাকী ক্লাসগুলো পার হয়ে এসে নাইন টেনে পদার্থ বিজ্ঞান পড়বে। ক্লাস ফাইভের বাচ্চার বইয়ের বাচ্চার জন্য ক্লাস ফাইভের বিজ্ঞান বই দরকার। পদার্থ বিজ্ঞান বই আরও পরে দরকার। আমরা সামাজিকভাবে শক্তিশালী হবার স্কুলে ক্লাস ফাইভেও পড়ি না। কিন্ডারগার্ডেনে পড়ি। এখন আমাদের ১,২, ক,খ পড়তে লেখতে শেখার সময়। পদার্থ বিজ্ঞান শেখা আরও পরে আসবে। এখন পদার্থ বিজ্ঞান পড়তে পারব না, তাই বলে কি ১,২ বা ক ,খ শেখা বন্ধ করে দেব? এগুলো না শিখলে ৮/১০ বছর পর পদার্থ বিজ্ঞান শেখার ক্লাসে উঠব কিভাবে ভাই?
আগে বহুবার বলেছি। আজকে আবারও বলি আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি আপনাদের মতামতকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। আপারা প্রত্যেকে যা যা বলেছেন তা সবই দরকার। সবই করতে হবে। না হলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক শক্তি অর্জন করা কষ্টসাধ্য হবে। কিন্তু সেগুলো কাজ শুরু করার আগেই করতে হবে এমন না। আগে তো আমাদের মাঠে নামতে হবে। স্কুলে ভর্তি হতে হবে। তারপর না উপরের ক্লাসের পদার্থ বিজ্ঞান শেখা।
মাঠে নামার জন্য ভালো উপায় হলো-
ছোট ছোট ইউনিট গঠন:
- স্থানীয় পর্যায়ে কিছু স্বতন্ত্র ইউনিট গড়ে তোলা।
- প্রতিটি ইউনিট নিজ নিজ এলাকার প্রাসঙ্গিক জীবনঘনিষ্ঠ ইস্যু নিয়ে কাজ করবে।
- ইউনিটগুলো ধারাবাহিকভাবে নির্দিষ্ট ক্যাম্পেইন (লিফলেট বিতরণ, পোস্টার লাগানো, ডাইরেক্ট সার্ভিস, এডুকেশনাল ক্যাম্পেইন, ওয়ার্কশপ আয়োজন ইত্যাদি) করতে পারলে তাদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।
সহজ কাজ শুরু করা:
- স্ট্রিট দাওয়াহ।
- পর্ণ, স্ক্রিন আসক্তি, সামাজিক অবক্ষয় ইত্যাদি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি।
- লিফলেট বিতরণ, পোস্টার সাটানো।
(এগুলো অলরেডি হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ) ধীরে ধীরে এগুলো বহমান থাকলে ইনশা আল্লাহ পরের ধাপগুলোতে প্রবেশ করা যাবে। উপরের আলোচিত উপাদানগুলো ইনশা আল্লাহ আমরা অর্জন করতে পারব। দুইটি কাজ পাশাপাশি চলবে।
সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই আক্ষেপে শুধু সামাজিক মাধ্যম গরম না করে ময়দানে নামা দরকার, আমাদের এখন ময়দানে নামার সুযোগ আছে । সীমিত সামর্থ্য যতোটুকু আছে তা নিয়েই এখন ময়দানে নামা দরকার। এগুলো এখনই করা সম্ভব। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করলে, ইনশা আল্লাহ। তাই চলুন সামাজিক শক্তি অর্জনের স্কুলের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হই।
দুই.
ক। সামাজিক শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা ও কলাকৌশল সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখায় বই পড়া, অনলাইন কোর্স, অডিও ভিজুয়াল কাজসমূহের প্রতি অতি নির্ভরশীলতার সমালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু তাই বলে এগুলোকে নাকচ বা গুরুত্বহীন বলা হচ্ছে না। অফলাইনের কাজের পাশাপাশি এগুলোও বহমান থাকবে। লেখক, কোর্স ইন্সট্রাক্টর বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ভাই,বোনেরা আমার কথায় মন খারাপ করবেন না। অনুরোধ রইল। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন ইনশা আল্লাহ।
খ। সামাজিক শক্তি অর্জনের কাজগুলো দ্বীনের মৌলিক দাওয়াহ, দ্বীন শিক্ষা দেয়া, ওয়াজ-মাহফিল ইত্যাদি কাজের সম্পূরক। এগুলোর বিকল্প না। বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম তাঁদের জায়গা থেকে কাজ করছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
তরুণদের ভাবা দরকার, নিজেদের করণীয় নিয়ে। কিভাবে সমাজে ইসলামী দাওয়াহকে শক্তিশালী করা যায়? কিভাবে সমাজের চিন্তা ও বয়ানকে প্রভাবিত করা যায়? কিভাবে মুসলিমের সামাজিক শক্তি বাড়ানো যায়? তরুণদের এই প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবতে হবে, এবং উদ্যোগ নিতে হবে।
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (