আপনার তারুণ্য কার জন্য? কেন করবেন সামাজিক অ্যাক্টিভিজম?

তারুণ্য আল্লাহর এক অসাধারণ নিয়ামত। জীবনের এই সময়টাতে মানুষ সবচেয়ে কর্মক্ষম থাকে, এবং এই সময়ের কাজের ফলাফল আমাদের ভবিষ্যৎ ও আখিরাতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই মূল্যবান সময় কীভাবে কাজে লাগাচ্ছি, তার জবাবদিহি করতে হবে বিচার দিবসে। ইসলামি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজমের মাধ্যমে এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
কেন করবেন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম?
১. বিচার দিবসের জবাবদিহিতা: আপনার যৌবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। বিচার দিবসে আল্লাহর কাছে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছাড়া আপনি এক পা-ও নড়তে পারবেন না। তার মধ্যে একটি প্রশ্ন হলো, আপনি আপনার তারুণ্য-যৌবন কীভাবে কাজে লাগিয়েছেন? যৌবনকে দ্বীনের কাজে ব্যবহার করার একটি উত্তম পন্থা হলো ইসলামি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম।
২. অবসর সময়ের সদ্ব্যবহার: স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটিগামী তরুণদের হাতে অনেক অবসর সময় থাকে। এই সময়গুলো সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়া, আড্ডা বা শুয়ে-বসে অপচয় হয়ে যায়। আপনার মূল্যবান সময়কে অর্থহীন কাজে নষ্ট না করে সামাজিক কাজে ব্যবহার করলে তা নিজের জীবন ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
৩. আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার: সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা আমাদের উপর আল্লাহ প্রদত্ত অন্যতম দায়িত্ব। প্রত্যেক নবীর (আঃ) দাওয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এটি। সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এই কাজের মাধ্যমে আমরা সেই দায়িত্ব পালন করতে পারি। সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াহ পৌঁছানো, হক ও বাতিলের মেরুকরণ এবং সমাজে ইসলামের অবস্থান স্পষ্ট করার একটি ভালো মাধ্যমও এই কাজ।
৪. প্রবীণদের সহযোগিতা: সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা সামাজিক কাজ করতে ইচ্ছুক, কিন্তু বয়স বা জীবিকার কারণে তাদের সেই কর্মস্পৃহা এবং সময়-সুযোগ নেই। তরুণরা যখন কাজে নেমে পড়ে, তখন সমাজের এই অংশটি খুশি হন এবং তাদের আর্থিক ও মানসিক সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। কাজটা শুরু করতে হবে তরুণদের, আর এতে হাল ধরতে হবে তরুণদেরই।
৫. সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো: জেনারেল লাইনের দ্বীনদার তরুণরা প্রতিদিনই সামাজিক অবক্ষয়ের মুখোমুখি হয়। তারা নিজ চোখে এসব বিষয় ঘটতে দেখে এবং ইসলামোফোবিয়ারও সম্মুখীন হয়। যারা জাহিলিয়্যাহ ছেড়ে দ্বীনে ফিরে এসেছেন, তারা হারাম সম্পর্ক, পর্ণোগ্রাফি ইত্যাদির মতো অবক্ষয়ের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে অভিজ্ঞ। এ ধরনের বিষয়ে তাদের কাজই বরং বেশি কার্যকর হওয়ার কথা । সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে, বিশেষ করে তরুণদের কাছে, তরুণরাই সহজে পৌঁছাতে পারবে।
জীবনের অন্যান্য দিনের মতো তারুণ্যও একসময় গত হবে এবং অতীত স্মৃতি হয়ে যাবে। তাই সময় থাকতেই একে অর্থপূর্ণ করে তুলি। তারুণ্য যেন বার্ধক্যে আফসোসের কারণ না হয় তা নিশ্চিত করি। আসুন, আল্লাহর সামনে পেশ করার মতো অন্তত একটি উত্তর যেন থাকে, সেজন্য হলেও ইসলামি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজমে নেমে পড়ি।
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (