Activism Lab

ষোলো পাঠচক্র: কেন ও কীভাবে?

এনামুল হোসাইন শাওন
এনামুল হোসাইন শাওন২৪ মিনিট পড়া
‘আকাশের ওপারে আকাশ’ বইয়ের প্রচ্ছদ

কেন ষোলো পাঠচক্র করব?

  • কিশোর তরুণদের সাথে আন্তরিক ও আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা, তাদের কন্ঠস্বরে পরিণত হওয়া
  • সামাজিক শক্তি অর্জনের জন্য কিশোর তরুণদের অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত করা
  • বিভিন্ন আসক্তি ও তরুণ বয়সের ভুল থেকে দূরে সরিয়ে রাখা
  • আদব আখলাক, লাইফ স্কিলস, পড়াশোনা, শরীরচর্চা ইত্যাদি ক্ষেত্রে গাইড করা
  • ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গাইড করা
  • নন-প্র্যাকটিসিং জেনারেল শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিসিং বানানো
  • সমাজ, কওম ও উম্মাহর জন্য একজন যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলা

পাঠচক্রের সময় মাথায় রাখতে হবে এই উদ্দেশ্যগুলো পূরণ করার জন্যই পাঠচক্র করছেন।

আপনাদের নির্ধারিত উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে কি না এবং পাঠচক্র সঠিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে কি না—তা যাচাই করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। যেমন: যারা পাঠচক্রে অংশগ্রহণ করছে, তাদের ঈমান ও আমলের উন্নতি হচ্ছে কি না; পূর্বে যারা সালাত আদায় করত না, এখন তারা তা আদায় করা শুরু করেছে কি না; তাদেরকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরামর্শগুলো তারা অনুসরণ করতে পারছে কি না; তারা পূর্বের কোনো আসক্তি বা ভুল অভ্যাস থেকে বিরত হচ্ছে কি না, অথবা তা থেকে বের হয়ে আসার আন্তরিক চেষ্টা করছে কি না, সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজমের বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে যুক্ত হচ্ছে কিনা।

এসব বিষয় নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে হবে। যদি লক্ষণীয় উন্নতি দেখা না যায়, তবে নিজস্ব কর্মপদ্ধতি ও পাঠচক্র পরিচালনার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করতে হবে।

কাদের নিয়ে পাঠচক্র করব?

ষোলো ম্যাগাজিন যেহেতু টিনেজারদের নিয়ে, তাই টিনেজারদের নিয়েই পাঠচক্র করতে হবে। সমাজের অন্যান্য বয়সী যারা আছে তাদের নিয়েও পাঠচক্র করব কিনা, বা মাদরাসার (বিশেষ করে কওমি মাদরাসার) ছাত্রদের নিয়ে পাঠচক্র করব কিনা? এরকম প্রশ্ন আমাদের মনে আসতে পারে।

সমাজের সব অংশের মানুষদের নিয়েই পাঠচক্র পরিচালনা করা জরুরী। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য এবং সময় সীমিত। তাই আমাদের পাঠচক্রের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং সামর্থ্য বিবেচনায় জেনারেল নন প্র্যাক্টিসিং শিক্ষার্থীরাই পাঠচক্রের জন্য উপযুক্ত পছন্দ।

দেখুন, দুঃখজনক বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে মূলত গুরুত্ব দেওয়া হয়—

  • নন-প্র্যাকটিসিং জেনারেলদেরকে
  • শিক্ষিত জেনারেল মধ্যবিত্ত
  • যারা সমাজের “মূলধারা”
  • বিশেষ করে জেনারেল শিক্ষিত ছাত্র

এরাই সবসময় সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখে-

প্রমাণ

  • ৫২, ৬৯, ৭১, ৭৫, ৯০, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন, জুলাই আন্দোলনসহ সবক্ষেত্রে জেনারেল শিক্ষিত ছাত্ররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
    • তাদের অধিকাংশই ছিল নন-প্র্যাকটিসিং। যদিও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে প্র্যাকটিসিংদের বেশ ভালো ভূমিকা ছিল।
  • ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আলিম-উলামা, ত্বলিবুল ইলমসহ প্র্যাকটিসিং মুসলিমদের ওপর শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছে
  • মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০+ মুসলিমকে খুন করা হয়, আলিম-উলামাদের গণহারে নির্যাতন করা হয়, কারাগারে পাঠানো হয়
    • মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি কাজী ইবরাহীমের মতো সম্মানিত ও জনপ্রিয় আলিমদেরকেও গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়
  • কিন্তু মূলধারার সমাজ এ ঘটনাগুলোয় তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
  • কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় নন-প্র্যাকটিসিং জেনারেল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ছাত্রদের উপর আক্রমণ করা হয়
  • এরপর পুরো দেশ রাস্তায় নেমে পড়ে
  • এমনকি ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে পর্যন্ত আন্দোলন হয়েছে।

কাজেই আমাদের দরকার—

  • নন প্র্যাক্টিসিং জেনারেল শিক্ষিত স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির শিক্ষার্থী (শুক্রবারের মুসল্লি)
  • যারা প্র্যাক্টিসিং না হলেও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ﷺ কে ভালোবাসে
    • তারা হয়তো নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে না, হয়তো গান-বাজনা শুনে, নাটক-সিনেমা দেখে, ইসলাম ঠিকঠাকভাবে মানে না; কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে।

এ ধরনের মানুষেরাই আমাদের সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাজেই আমরা যদি এদেরকে টার্গেট করে পাঠচক্র করি, এবং পাঠচক্রের মাধ্যমে তাদেরকে সমাজ, কওম ও উম্মাহর জন্য যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আমরা আমাদের সমাজ, কওম ও উম্মাহর জন্য অনেক বড় অবদান রাখতে পারব ইনশা আল্লাহ।

পাঠচক্রের কিছু মূলনীতি

১/ জাঁকজমকপূর্ণ না করা

  • আমরা সবসময় চিন্তা করি, কোনো কিছু করলে অনেক বড় করে করতে হবে, জাঁকজমকপূর্ণ করতে হবে। কিন্তু এটি করার সক্ষমতা আমাদের সবসময় থাকে না।
  • অনেক মানুষ নিয়ে, সেলিব্রেটি নিয়ে পাঠচক্র করতে চাই, অনেক টাকা খরচ করতে চাই, অনেক ভালো ভালো উপহার দিতে চাই… এমনটা হলে হয়তো বছরে ৩/৪ টা পাঠচক্র করতে পারব। নিয়মিত করতে পারব না।
  • হঠাৎ হঠাৎ পাঠচক্র করলে সেটার ফলাফল ভালো আসে না। ৩ মাস, ৬ মাস পরপর পাঠচক্র করলে, মাঝখানের সময়টায় তারা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাদেরকে ধারবাহিকভাবে গাইড করতে পারবেন না
  • এজন্য নিয়মিত পাঠচক্র করতে হবে। অত বেশি জাঁকজমকপূর্ণ করা যাবে না।

২/ পাঠচক্রের সদস্য সংখ্যা কম রাখা

মানুষ কম থাকলে তাদের সাথে বেশি সময় দিতে পারবেন। সবাই আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে, সবাই কথা বলতে পারবে। তাদের সাথে আপনার একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হবে। আপনি তাদেরকে ভালোভাবে গাইড করতে পারবেন।

৩/ ছোট ও সহজ রাখা

পাঠচক্র ছোট ও সহজ রাখতে হবে। জটিল কিছু করা যাবে না।

৪/ ঝরে পড়া রোধ করা

পাঠচক্রে যারা আসবে তারা যেন ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। প্রথম দিন ১০ জন আসলো, এরপর দ্বিতীয় দিন আসলো ৫ জন - এমন যেন না হয়।

৫/ সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

  • পাঠচক্রে সবাই যেন কথা বলতে পারে তা নিশ্চিত করুন
  • সবাইকে প্রশ্ন করে ফিডব্যাক নিন
  • বিশেষ করে যারা লাজুক প্রকৃতির তাদের ব্যাপারে বেশি খেয়াল রাখুন। কারণ, তারা নিজে থেকে কিছু বলতে চাইবে না।

৬/ ফ্রি-মিক্সিং পরিহার করা

ছেলেদের পাঠচক্রে শুধু ছেলেরাই থাকবে। কোনো মেয়ে নেওয়া যাবে না। একই কথা মেয়েদের পাঠচক্রের ব্যাপারেও। ছেলে-মেয়ে মিলেমিশে কোনো পাঠচক্র করা যাবে না।

৭/ খুব অল্প টাকার কিছু গিফট দেওয়া

দামী গিফট দিলে টাকা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারবেন না।

প্রশ্ন

উত্তর

সপ্তাহে কয়টা

১ টা (প্রতি মাসে একটি বা তিন মাসের একটি নয়, সপ্তাহে একটি পাঠচক্র করতে হবে)

কয়জন থাকবে

  • সর্বোচ্চ ১০ জন (যত কম পারা যায় তত ভালো, ৩/৫ জন বেস্ট)
  • মানুষ বেশি হয়ে গেলে প্রয়োজনে একাধিক পাঠচক্র করা যেতে পারে
  • আপনার এলাকায় বা সার্কেলে যদি পাঠক ১০ জনের বেশি হয়ে থাকে, তাহলে দুইটা গ্রুপ করে আলাদা পাঠচক্র করতে পারেন। পাঠচক্র দুইটা হলেও আলোচনা একই টপিকে হবে। যেমন- একটি শনিবারে হলে আরেকটা রবিবারে করতে পারেন। এভাবে ২০ জন পাঠকের জন্য ১০ জন করে দুটি গ্রুপ করে আলাদা পাঠচক্র করবেন। তবে আলোচনা একই টপিকে ও একই ধারাবাহিকতায় করবেন।

কারা উপস্থিত থাকবে

  • নন প্র্যাক্টিসিং জেনারেল (শুক্রবারের মুসল্লী)
  • স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী
    • যেহেতু ‘ষোলো’ একটি টিনেইজ ম্যাগাজিন, তাই স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদেরকেই পাঠচক্রের জন্য বাছাই করবেন।
    • তবে ‘ষোলো’র কিছু লেখা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যও উপযোগী। যেমন- ব্যায়াম সিরিজ, পড়াশোনার টিপস, সামাজিক শক্তি অর্জন সিরিজ ইত্যাদি। তাই তাদেরকে নিয়েও আলাদা পাঠচক্র করা যেতে পারে।
  • প্রতিবেশী, কাজিন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব
    • টিনেজার প্রতিবেশী, কাজিন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব - এদেরকে পাঠচক্রের জন্য দাওয়াত দিতে পারেন
  • ছেলেদের পাঠচক্রে মেয়েরা বা মেয়েদের পাঠচক্রে ছেলেরা উপস্থিত থাকতে পারবে না

কীভাবে পাঠচক্রের দাওয়াত দিব ?

  • পরিচিতদের দিয়ে শুরু করুন
    • আপনার প্রতিবেশী, কাজিন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব - এদের ছোট ভাই বা ছেলে থাকলে তাদেরকে নিয়ে পাঠচক্র শুরু করুন। ২/৩ জন পেলেও শুরু করে দেবেন। একবার পাঠচক্র শুরু করে দিন, এরপর দেখবেন পাঠক বেড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
  • ভালো ছাত্রদের ক্ষেত্রে পড়াশোনার টিপস
    • আপনার এলাকার ভালো ছাত্রদের অ্যাপ্রোচ করবেন এভাবে—’দেখো, ষোলোতে পড়াশোনা নিয়ে সুন্দর সুন্দর টিপস আছে। আসো, আমরা এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করি।’ এভাবে তাদেরকে প্রভাবিত করে পাঠচক্র শুরু করবেন।
  • একটু চঞ্চল ছেলেদের ক্ষেত্রে ব্যায়াম, শরীর চর্চা টিপস, লাইফস্কিলস
    • আবার যেসব ছেলে দুষ্ট প্রকৃতির, যাদের মন বসে না পড়ার টেবিলে, মন পড়ে থাকে পাবজির ফায়ারে, কিংবা যারা খেলার মাঠের হিরো, তাদের কাছে গিয়ে পড়াশোনার টিপস দেবেন না। তাদেরকে খেলাধুলা, ব্যায়াম, লাইফস্কিলস ইত্যাদির টিপস দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন।
  • ম্যাগাজিন উপহার দিন
    • আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী কয়েকজনকে ‘ষোলো’ উপহার দিতে পারেন। এতেও তারা প্রভাবিত হতে পারে।
  • খাবারের লোভ দেখান
    • সামান্য সিঙ্গারা-সমাচার কথা শুনলেও মানুষ সেটা পেতে চায়। মাসজিদে তবারক দিলে বাইরে পিচ্চি ছেলেদের আগ্রহ দেখেছন নিশ্চয়ই। তাই তাদের পাঠচক্রে নিয়ে আসার একটা অন্যতম উপায় হলো খাবারের কথা বলা।
  • উপহারের লোভ দেখান
  • পাঠচক্রে নতুন সদস্য যারা নিয়ে আসবে তাদেরকে পুরস্কারের লোভ দেখান
    • পাঠচক্রের রানিং সদস্যদেরকে বলবেন নতুন পাঠক নিয়ে আসতে। এর বিনিময়ে তাদেরকে পুরস্কার দেবেন। যে বেশি পাঠক নিয়ে আসবে তার পুরস্কার তত বেশি। তবে এই পুরস্কার আপনার সাধ্যের মাঝে রাখবেন। এরকম বলে দিলে দেখবেন, ওরা ওদের পরিচিত বন্ধু বা ছোটভাই বড় ভাইদের নিয়ে আসবে।
  • পাবজি খেলার স্থান বা ক্রিকেট ফুটবল খেলার মাঠের পাশে বসে থাকুন
    • অনেক সময় খেলার মাঠে অনেককে বসে থাকতে দেখবেন। তাদের নিয়ে শরীরচর্চা সম্পর্কিত লেখাগুলো দিয়ে পাঠচক্র শুরু করে দিন। আবার অনেক সময় পাবজি যোদ্ধারাও দলবদ্ধ হয়ে গেইম খেলে। ওদেরকেও ওদের গেইমিং পর্ব শেষ হলে পাঠচক্রের জন্য দাওয়াত দিন
    • মাঠের খেলা শেষ হলে খেলোয়াড়দের আহ্বান জানান ১০ মিনিট পাঠচক্র করার জন্য। উপরের পয়েন্টগুলো মাথায় রাখুন। পাঠচক্র শেষে হালকা নাস্তার ব্যবস্থা রাখুন। ইনশা আল্লাহ তাদের সাথে আপনার একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হবে। একেবারে শূন্য থেকে অপরিচিত মানুষ নিয়েও আপনি পাঠচক্র শুরু করতে পারবেন।

পাঠচক্রের দাওয়াত দেবার ক্ষেত্রে কারা  সাহায্য করতে পারবেন?

  • শিক্ষক
    • আপনি যে স্কুলে পড়তেন বা আপনার এলাকায় যে স্কুল আছে, সেখানে গিয়ে শিক্ষকদেরকে ‘ষোলো’ গিফট দেন।
    • শিক্ষকদের এভাবে বোঝান—’স্যার, ছেলেরা তো ঠিকমতো পড়াশোনা করে না, বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে, অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে গেছে, সারাক্ষণ ফোন চালায়, উলটাপালটা কাজ করে বেড়ায়। আমরা তাদেরকে পড়াশোনার টিপস দেবো, আদব-কায়দা শেখাবো, শরীরচর্চার টিপস দেবো।লাইফস্কিল শেখাব। তাদের রেজাল্ট ভালো হবে, খারাপ নেশা বন্ধ হবে। তো, স্যার আপনি কয়েকজন ছাত্র দিয়ে পাঠচক্রের ব্যবস্থা করে দিলে ভালো হয় । পাঠচক্র কোথায় করা যায় বা কাদেরকে নিয়ে করা যায় দয়া করে একটু পরামর্শ দিন স্যার।’
  • কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট টিউটরের মালিক
    • এখানেও একই ধাচে কথা বলবেন। দেখবেন তারা হয়তো কিছু ছাত্র দেওয়ার সাথে সাথে একটা রুমও দিয়ে দিচ্ছে পাঠচক্র করার জন্য।
  • অভিভাবক
    • এখানেও একই টেকনিক। অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের নিয়ে অনেক চিন্তিত। তাদেরকে বোঝাতে পারলে দেখবেন তারা বেশ আগ্রহ নিয়ে তাদের ছেলেদের আপনার সাথে দিয়ে দিচ্ছে।
  • মাসজিদের সম্মানিত ইমাম, আলিম-উলামাগণ
    • আপনার এলাকা বা মহল্লার মাসজিদের ইমামের সাথে সুসম্পর্ক রাখবেন। তাদেরকে ষোলো সম্পর্কে অবগত করুন। বুঝিয়ে বলুন কিশোর তরুণরা যেন ইসলামী মূল্যবোধে দীক্ষিত হয়ে উঠে সে চেষ্টাই করে যাচ্ছে ষোলো ম্যাগাজিন তারপর অনুরোধ করুন যেন তাঁরা জুমুআর খুতবায় আপনাদের পাঠচক্রের ব্যাপারে ঘোষণা দেন । দেখবেন অনেক অভিভাবক আপনাদের পাঠচক্রে তাদের সন্তানদের পাঠাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ এখনো সাধারণ মানুষ মাসজিদের ইমাম-খতীব সাহেবদের কথার বেশ মূল্যায়ন করেন।

পাঠচক্র কোথায় হবে?

  • অফলাইনে
    • পাঠচক্র অবশ্যই অফলাইনে করতে হবে। অনলাইনে পাঠচক্র করলে পাঠচক্রে যোগদানের অযুহাতে অনেকে স্ক্রিন আসক্ত হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া অফলাইনে দেখা-সাক্ষাত হলে পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত হয়।
  • ক্লাস ছুটির পর খেলার মাঠে, ক্লাসের বারান্দা
    • পাঠচক্র খুব সাদামাটাভাবে হবে। এর জন্য বিশাল কোনো হলরুম বা সেমিনার রুমের প্রয়োজন নেই। খেলার মাঠ বা ক্লাসের বারান্দায় বসেও পাঠচক্র করা যায়।
  • বিকেলে খেলার মাঠে
  • মাসজিদের বারান্দা বা উঠোনে
  • বাসার ছাদে, বারান্দায়
  • নদীর ধারে, পুকুর পাড়ে
  • সুবিধাজনক স্থানে
    • ৪/৫ জন্য একসাথে যেখানেই বসা যায়, সেখানেই পাঠচক্র করে ফেলতে পারেন।

পাঠচক্রে আলোচ্য টপিক কী হবে?

  • ষোলো ম্যাগাজিন
  • ক্লাস এবং বয়সভেদে একেকটি পাঠচক্রের ক্ষেত্রে একেক রকম লেখা দিয়ে পাঠচক্র শুরু করা
    • তুখোড় ছাত্রদের জন্য পড়াশোনা রিলেটেড টপিক
    • দুষ্ট ও গ্যাং টাইপ ছেলেদের জন্য ব্যায়াম ও খেলাধুলা রিলেটেড টপিক
    • আর প্রথম দিন সবচেয়ে মজার লেখা দিয়ে শুরু করা
  • যেন মজা পায়, বিরক্ত না হয়, নিজেদের জীবনের সাথে মেলাতে পারে
  • প্রাইমারির বাচ্চাদের জন্য তাদের উপযোগী মজার মজার গল্প দিয়ে শুরু করা
  • হাইস্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের উপযোগী লেখাগুলো আগে পাঠ করা
    • ব্যায়াম
    • শরীরের যত্ন
    • মেয়েদের ক্ষেত্রে রেসিপি ইত্যাদি

পাঠচক্রের শিডিউল কেমন হবে?

  • ধরুন পাঠচক্র ৩০ মিনিট
    • পাঠচক্র যারা আসবে তাদের আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখে সময় নির্ধারণ করতে হবে
  • অংশগ্রহণমূলক
    • সবাইকে কথা বলতে হবে
    • বিশেষ করে মুখচোরা লাজুক কেউ থাকলে, তাকে দিয়েও কথা বলাতে হবে
  • ০-১০ মিনিট: একজন আলোচ্য টপিকে আলোচনা করবেন বা পড়বেন (একেকদিন একেকজন)
  • ১১-২০ মিনিট: সবাই যার যার মতামত দিবেন
  • ২১-২৫ মিনিট: কুইজ/প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা
  • ২৬-৩০ মিনিট: দায়িত্বশীল আলোচনার সামারি করবেন (পয়েন্ট আকারে), প্রাইজ দিবেন , খাওয়াদাওয়া করবেন

সিরিয়াসনেস

  • পাঠচক্র হালকা চালে হতে হবে, যেন সবাই মজা পায়, উপভোগ করে
  • তবে সুযোগ থাকলে ডায়েরিতে নোট করার মতো বিষয় থাকতে পারে

মূল্যায়ন

  • তেমন সিরিয়াস কিছু না
    • তবে কে আলোচনায় অমনোযোগী তা নোট নিতে পারেন। এটা অন্য কাউকে দেখানো যাবে না।
    • কে নিয়মিত, কে অনিয়মিত এসব নোট নিতে পারেন
  • প্রতি সেশন শেষে মজার ছলে কুইজ হতে পারে

পুরস্কার

  • প্রতিটি সেশনের পরে বিজয়ীদের অল্প টাকায় কিছু প্রাইজ দেওয়া যেতে পারে
    • ২ টাকার চকোলেট
    • ৫ টাকার কলম ইত্যাদি
  • প্রাইজ দিলে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ উদ্দীপনা ধরে রাখা যায়
  • ঝরে পড়া রোধ করা যায়
  • বেশি টাকা খরচ করা যাবে না। করলে পাঠচক্র নিয়মিত করা সম্ভব হবে না

খাবার দাবার

  • টাকার পরিমাণ খুব কম রাখতে হবে। না হলে নিয়মিত পাঠচক্র করা সম্ভব হবে না।
    • খাবার-দাবার দিলে টিনেজাররা নিয়মিত আসবে
  • ১০ জনের পাঠচক্রে সর্বোচ্চ ২০-৫০ টাকা
  • প্রত্যেকে ২ টাকার ১ টি চকোলেট
  • বা সবাই মিলে ২০ টাকার বিস্কুট
  • বা ২০ টাকার মুড়ি চানাচুর মাখা

উপস্থিতি

  • সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ দিতে হবে
  • পাঠচক্র মিস করলে খোঁজখবর নিতে হবে
    • কেউ যেন ঝরে না যায়, তা খেয়াল রাখতে হবে
    • কেউ মিস দিলে কেন মিস দিয়েছে সেটা জানতে হবে
    • কোনো সমস্যা থাকলে সেটা সমাধান করে দিতে হবে
  • আপনি যদি উপরে আলোচিত টিপস অনুযায়ী নিয়মিত পাঠচক্র করেন, তাহলে আশা করা যায় কেউ ঝরে পড়বে না ইনশাআল্লাহ

শাস্তি

  • পাঠচক্র মিস করলে বা মনোযোগী না হলে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না
  • অনুপ্রেরণা উৎসাহ দিতে হবে
    • পাঠচক্রে আসলে কীভাবে উপকৃত হবে তা বুঝাতে হবে

ডকুমেন্টেশন

  • কে কয়টা পাঠচক্রে আসলো
  • পাঠচক্রে অংশগ্রহণের মাত্রা কেমন ছিল ইত্যাদি বিষয়
    • নোট দেখে বুঝতে পারবেন কাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে
    • কে দ্রুত উম্মাহর জন্য উপকারী হবে বুঝতে পারবেন
    • আবার যার সিরিয়াসনেস কম, তার আগ্রহ উদ্দীপনা বাড়াতে পারবেন
  • হালকা চালে নোট রাখা যেতে পারে
  • তারা যেন না দেখে এই নোট। দেখলে আপনাকে ভুল বুঝতে পারে।

বিশেষ পাঠচক্র

  • ঈদে, শীত বা গ্রীষ্মের ছুটিতে দেশের বাড়ি যাবার সময় ষোলো নিয়ে যাওয়া
  • এলাকার বন্ধ বান্ধব, ভাই বেরাদার, কাজিন, ছোট ভাইবোনদের দিয়ে পাঠচক্র শুরু করতে পারেন
    • ঈদ বা অন্য ছুটির দিনে সবাই একসাথে বসে আড্ডা দেওয়ার সময়
    • ইনডোর গেইমস বা অন্য খেলা খেলে সময় পার করার সময়
    • ষোলো ম্যাগাজিনের একটি গল্প দিয়ে পাঠচক্র শুরু করে দিবেন
  • তাদের পাঠচক্র করা শিখিয়ে দিলেন ও খোঁজখবর রাখলেন
    • কাজিন বা ছোট ভাই যারা গ্রামে থাকে, তাদেরকে পাঠচক্রের এ টু জেড শিখিয়ে দিবেন,
    • তাদেরকে ষোলো সাপ্লাই দিবেন
    • তারপর আপনি শহরে চলে আসলেও তারা পাঠচক্র চালিয়ে যাবে
    • আপনি নিয়মিত ফোনে খোঁজখবর রাখবেন
  • তারা পাঠচক্র জারি রাখবে

পাঠচক্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাক্কী জীবনে দারুল আরকামে সাহাবীদের নিয়ে তারবিয়াহ করতেন। বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন। সেখানে যে সাহাবীগণ ছিলেন, পরবর্তীকালে তাঁরাই ইসলাম প্রচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।

পাঠচক্রের মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র ও উম্মাহর জন্য মানুষ তৈরি করা যায়। কিশোর-তরুণদের ক্ষতি থেকে বাঁচানো যায়। তাদেরকে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করা - এর জন্য পাঠচক্রের কোনো বিকল্প নাই।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করুন—

  • পাঠচক্রের মূল দায়িত্বশীলকে খুব ভালোমতো প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে
    • কোন লেখা প্রাইমারির বাচ্চাদের উপযোগী, কোনটা হাই স্কুলের ছেলেদের উপযোগী, আর কোনটা কলেজ-ভার্সিটির ছাত্রদের উপযোগী, তা বুঝার জন্য আগে আপনাকে ম্যাগাজিন পড়তে হবে
    • পাঠচক্র শেষে যে সামারি করবেন, সেটার জন্যও আপনার ওই লেখাটা বা ম্যাগাজিন পড়া থাকতে হবে
    • ভালোভাবে পড়ে ও নোট নিয়ে পাঠচক্রে যেতে হবে
  • পাঠচক্রে সবাইকে আলোচনা করার, প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে
    • আপনি একা ম্যাগাজিন পড়ে গেলেন আর বাকিরা শুধু শুনেই গেল - এমন যেন না হয়
    • বরং পড়া শেষে সবাই যেন মতামত দিতে পারে বা প্রশ্ন করতে পারে তা নিশ্চিত করবেন
    • সবাই যেন ভাবতে পারে যে, এই পাঠচক্রটা তাদের সবার, তারা সবাই এখানে কথা বলতে পারছে, মতামত জানাতে পারছে
  • ষোলো ম্যাগাজিন দিয়ে পাঠচক্র শুরু করার পর অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহের ভিত্তিতে অন্যান্য আলোচনা আনা যেতে পারে
    • নিয়মিত পাঠচক্র করতে করতে একসময় ষোলো’র সব লেখা শেষ হয়ে যেতে পারে। তখন কী করবেন? পাঠচক্র অফ রাখবেন?
    • না; বরং ষোলোর পুরাতন সংখ্যাগুলো নিয়ে পাঠচক্র করুন
    • টিনেজারদের জীবনঘনিষ্ঠ আলোচনা আছে এমন বই নিয়ে পাঠচক্র চালিয়ে যাবেন। যেমন- আকাশের ওপারে আকাশ, মুক্ত বাতাসের খোঁজে, তুমি ফিরবে বলে, এপিটাফ , অনেক আঁধার পেরিয়ে ইত্যাদি
    • নবী-রাসূল, সাহাবী ও ইসলামের হিরোদের জীবনী নিয়ে পাঠচক্র চালিয়ে যেতে পারেন। আমাদের ভূখণ্ডের যেসব বীর ছিলেন, তাদের জীবনী নিয়ে পাঠচক্র করতে পারেন। যেমন- শাহ জালাল, শারীয়াতউল্লাহ, তিতুমীর, দুদু মিয়া প্রমুখদের জীবনী। রহিমাহুমাল্লাহ। ষোলোতেও ইনাদের কয়েকজনের জীবনী এসেছে।
    • শুরুতেই কঠিন ও তাত্ত্বিক কোনো বই নিয়ে পাঠচক্র করবেন না। এগুলো নিয়ে পাঠচক্র করলে সদস্যরা ঝরে পড়তে পারে।
  • পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীদের সাথে
    • খুবই ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হবে
    • যেন বিপদাপদে পড়লে তারা আপনার কাছে পরামর্শ চাইতে আসে
    • তাদেরকে সাধ্যমত আর্থিক, মানসিক সমর্থন দিন
    • তাদের সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক তৈরি করবেন
    • পাঠচক্রের পর তাদের নিয়ে একসাথে খেলাধুলা করবেন

এভাবে তাদের সাথে সুন্দর একটা সম্পর্ক তৈরি করবেন। এটা অনেক সাওয়াবের কাজ। আপনি যেসব নন-প্র্যাকটিসিং ছেলেদের গড়ে তুলছেন, এরাই পরবর্তীতে সমাজ পরিবর্তন করবে, ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে ইনশাআল্লাহ। আমরা আশা রাখি যে, তারা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ইসলামের উপর আমল করবে।

দেখুন, এখানে আপনার ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি তাদের গড়ে তুলছেন। তারা পরবর্তীকালে এই পরিবর্তনগুলো করবে। তারা যে কাজগুলো করবে, সেগুলোর সাওয়াব কিন্তু আপনিও পাবেন।

  • পাঠচক্রে যারা খুব সিরিয়াস থাকবে তাদেরকে—
    • জনসেবামূলক বিভিন্ন কাজে যুক্ত করতে হবে
    • জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে যুক্ত করতে হবে
      • লিফলেট বিতরণ
      • পোস্টারিং ইত্যাদি

এই ছিল পাঠচক্রের ফরম্যাটের বিস্তারিত আলোচনা। আশা করি, এটুকু পড়ার পর আপনি সুন্দরভাবে পাঠচক্র করতে পারবেন।

প্রচারণা

এখন আসি প্রচারণার আলোচনায়। আপনি যে পাঠচক্র করছেন, এটার কিছু প্রচারণা চালাতে হবে। প্রচারণার জন্য যা যা করবেন—

  • পাঠচক্র করার সময় ছবি-ভিডিও করবেন
  • তারপর এগুলো অনলাইনে রেগুলার পোস্ট করবেন
    • ‘আমরা এ সপ্তাহের পাঠচক্র করলাম। ষোলো ম্যাগাজিনের অমুক লেখা থেকে আলোচনা হয়েছে আজ।’ এভাবে লিখে পোস্ট দিবেন।
  • এরপর এই পোস্টের লিংক
    • ষোলো ম্যাগাজিনের পেইজের ইনবক্সে দিবেন
    • অনলাইনের প্রভাবশালীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে দিবেন
    • তারপর তাদেরকে বিনয়ের সাথে শেয়ার করতে বলবেন
    • এতে পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীরাও আনন্দ পাবে। তারা ভাববে, তাদের পাঠচক্রের ছবি অমুক ভাই শেয়ার দিয়েছে, ভিডিওর এতগুলা ভিউ হয়েছে। এগুলো ভেবে তারা আনন্দ পাবে। পাঠচক্রের প্রতি উদ্যোম বেড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এতে তারা পাঠচক্রে নিয়মিত হবে।
  • পাঠচক্রে আসার ফলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে তা পোস্ট করে জানাবেন
    • কারও হয়তো সিগারেটের নেশা ছিল, পাঠচক্রে আসার পর থেকে এটা ছেড়ে দিল
    • আগে বাবা-মা’র সাথে খারাপ আচরণ করত, এখন সে ভালো ব্যবহার করে
    • আগে পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হতো, এখন ভালো রেজাল্ট করে
    • আগে রাত জাগত, এখন দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে
    • আগে স্মার্টফোন আসক্ত ছিল, এখন এটা কমে গেছে
    • এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো নিয়মিত পোস্ট করবেন।
  • এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর গল্প ইমেইজ ডিজাইন করে বা ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করবেন
    • যারা পরিবর্তন হচ্ছে, তাদের সাক্ষাৎকার ভিডিও করতে পারেন
    • ‘আগে আমি রেজাল্ট খারাপ করতাম, ষোলো ম্যাগাজিনের পাঠচক্র করার পর এখন ভালো রেজাল্ট করছি।’ এই স্টাইলে সাক্ষাৎকার ভিডিও নিবেন। তবে কোনো গোপন গুনাহের কথা বললে সেটি ভিডিও থেকে কেটে দিবেন।
    • এরপর এগুলো প্রচার করতে হবে।
    • আর এই সফলতাগুলো ট্র্যাক করতে পারলে বুঝতে পারবেন, আপনি ঠিকঠাক পাঠচক্র করতে পারছেন, লক্ষ্য অনুযায়ী আগাতে পারছেন। তাহলে পাঠচক্র জারি রাখার ব্যাপারে আরও মনোবল পাবেন ইনশা আল্লাহ।
    • সফলতাগুলো চেক না করলে আপনি একসময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। ভাবতে পারেন, শুধু শুধু এগুলো করছেন, কোনো কাজেই আসছে না। এত কষ্ট করে করলাম, কিন্তু কোনো ফলাফলই দেখতে পাচ্ছি না। পাশাপাশি অন্যরাও বলতে পারে, তোমরা যে পাঠচক্র করছ এগুলো দিয়ে তো কিছুই হচ্ছে না।

(তবে বিশেষভাবে মনে রাখুন আপনি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাজ করে থাকনে তাহলে ফলাফল না দেখলেও মনোবল হারিয়ে ফেলবেন না। কারণ আল্লাহ ফলাফল নয়, আপনার নিয়্যত ও চেষ্টা অনুসারে আপনাকে পুরষ্কৃত করবেন)

  • অভিভাবকদের দিয়েও ভিডিও বানানো যেতে পারে
    • পাঠচক্রে আসার ফলে তাদের ছেলেমেয়েদের যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, সেগুলো উল্লেখপূর্বক ভিডিও সাক্ষাৎকার
    • এভাবে অ্যাপ্রোচ করবেন—’আঙ্কেল, ষোলো পাঠচক্রে যোগদানের পর আপনার ছেলে কিভাবে উপকৃত হয়েছে তা যদি আমাদের ভিডিওতে একটু বলতেন!’
    • সাক্ষাৎকারগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করবেন। এগুলোর কারণে সমাজে আপনাদের একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে। এতে অনেকে আপনাদের ফান্ড দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে। বিভিন্ন বিপদাপদেও সাহায্য করতে পারে ইনশা আল্লাহ।

ফান্ডের উৎস

পাঠচক্র নিয়ে সকল মূল আলোচনা শেষ। এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন আসে - তা হলো ফান্ড। আপনারা যে পাঠচক্র করবেন, তার জন্য টাকা-পয়সা লাগবে। তো এই টাকা-পয়সা কীভাবে জোগাড়, সেটি নিয়েই এখন আলোচনা করা হবে ইনশা আল্লাহ। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে ফান্ড ম্যানেজমেন্ট SOP তে।

ফান্ড কোথায় পাব?

  • নিজেরা চাঁদা তুলুন
    • আপনারা কয়েকজন বন্ধু মিলে সংঘবদ্ধ হোন।
    • নিজেরা সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা তুলুন।
  • স্থানীয় সচেতন মুরুব্বিদের কাছে যান
    • এলাকার সচেতন মুরব্বি যারা আছেন, তাঁদেরকে আপনাদের পাঠচক্রের ব্যাপারে অবগত করুন। ফান্ড দেবার জন্য অনুরোধ করুন।
  • স্কুল-কলেজের শিক্ষক
  • অভিভাবক
  • প্রকাশনী, ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের থেকে স্পনসর নিতে পারেন
  • ক্রাউডফান্ডিং

১. নিজেদের চাঁদা

  • আপনি যদি একা হয়ে থাকেন, তবে অল্প অল্প করে টাকা জমান। চাচা-মামা-ফুপু-খালাদের কাছ থেকে পাঠচক্রের কথা বলে টাকা নিন।
  • আর যদি ৩/৪ জন হন, তাহলে নিজেরা মাসিক চাঁদা চালু করুন
  • চাঁদার পরিমাণ কম রাখতে হবে, যেন কারও সমস্যা না হয়
  • ইউনিটের সদস্যদের ব্যক্তিগত সমস্যার দিকে খেয়াল রাখুন
  • প্রত্যেক সদস্য ব্যক্তিগতভাবে—
    • দিনে ২ টাকা করে আলাদা রাখুন , মাসে ৬০ টাকা জমবে। ৪ জন ৬০ টাকা করে দিলে ২৪০ টাকা হয়ে যাবে।
    • এভাবে টাকা জমানোর সুযোগ না থাকলে প্রতিদিন ১ মুষ্ঠি চাল আলাদা রাখুন, মাসে জমা হবে ৩০ মুষ্ঠি চাল । ৩০ মুষ্ঠি চাল বিক্রি করলে বেশ কিছু টাকা পেয়ে যাবেন।
    • এভাবে প্রতিদিন অল্প অল্প করে সঞ্চয় করলে চাঁদা দিতে সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।

২. ক্রাউডফান্ডিং

  • এটি ফান্ড কালেকশানের সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি
  • এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি, মুরুব্বী, অভিভাবক, শিক্ষক, সচেতন মানুষ ও সাধারণ জনতা সকলের অংশগ্রহণ থাকে এতে
    • সমাজের সব মানুষ আপনাদের সাহায্য করছে
    • সমাজের মানুষের কাছে আপনাদের ব্যাপারে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হচ্ছে
    • আপনি সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারছেন
    • বিপদাপদে সাহায্য পাবেন
  • অনলাইনের মাধ্যমে সমগ্র দেশ কিংবা উম্মাহর কাছ থেকেও ফান্ড কালেক্ট করা যায়

৩. স্পনসরশীপ

  • স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রকাশনী, অনলাইন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে স্পন্সরশীপ নিতে পারেন
  • পরিচিত রেস্টুরেন্ট মালিকের কাছ থেকে নিতে পারেন
  • ব্যবসা অবশ্যই হালাল ও জনগণের সাথে প্রতারণা করে না এমন হতে হবে

৪. হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগ, ব্যবসা, হাঁস-মুরগী, পশু পালন ইত্যাদি

  • যারা গ্রামে থাকেন, হাঁস-মুরগী, ছাগল ইত্যাদি লালনপালন করতে পারেন
  • হালাল ব্যবসায় বুঝে শুনে বিনিয়োগ করতে পারেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূলধন পর্যন্ত হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। তাই পারতপক্ষে এটি এড়িয়ে চলা উচিত
  • জুমুআর সালাতের পরে, রমাদান বা ঈদের সময় বা রেগুলার বিভিন্ন সিম্বলিক টি-শার্ট, মগ, ক্যাপ, ডায়েরি, আতর ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন। বিক্রি থেকে যে লাভ আসবে, সেটা দিয়ে ম্যাগাজিন, পুরস্কার ইত্যাদি কিনতে পারবেন।
  • বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ম্যাটেরিয়ালস যেমন বই, লিফলেট, পোস্টার, সিল, বুকলেট ইত্যাদি ছাপিয়ে বিক্রি করতে পারেন। এখান থেকে যে সামান্য লাভ আসবে, সেটি পাঠচক্রের খরচে কাজে লাগাতে পারবেন।
  • এসব ক্ষেত্রে কুরবানির মানসিকতা থাকতে হবে

শুধু একজন বা অল্প কয়েকজনের উপর নির্ভর না করা

কখনো এমন হতে পারে যে, কোনো একজন ব্যক্তি একাই পাঠচক্রের সকল খরচ বহনের প্রস্তাব দিতে পারেন । এভাবে একজনমাত্র ব্যক্তির উপর নির্ভর করবেন না। কারণ, তিনি কখনো ফান্ড দেওয়া বন্ধ করে দিলে, বেকায়দায় পড়ে যাবেন। পাঠচক্র চালিয়ে নিতে পারবেন না। কারণ আপনার কাছে বিকল্প ফান্ড থাকবে না। 

  • দাতা নিজেদের মনমতো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইবে
  • ফান্ড বন্ধ হয়ে গেলে আপনি বিপদে পড়ে যাবেন
  • এক ঝুড়িতে সব ডিম রাখবেন না
  • বিকল্প একাধিক, এবং কয়েক ধরনের সোর্স রাখতে হবে
  • একটা বন্ধ হয়ে গেলে যেন অন্যগুলো দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে পারেন
  • পরিমাণ অল্প হলেও যতবেশি সম্ভব মানুষের কাছ থেকে ফান্ড নিতে পারবেন আপনার ইউনিট ততবেশি টেকসই হবে
  • মাসিক ভিত্তিতে ১০ জন মানুষ ১ হাজার টাকা দেবার চাইতে ১০০ জন মানুষ ১০ টাকা করে দিচ্ছে এমন ক্রাউডফান্ডিং সবচেয়ে নিরাপদ। দাতারাও চাপ অনুভব করবেন না, পাশাপাশি আপনারাও ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন ইনশা আল্লাহ।
  • আপনি অনেক মানুষকে আপনার উদ্যোগের সাথে যুক্ত করতে পারলেন। ১ হাজার দাতার ছেলেমেয়ে বা পরিচিত টিনেজার থাকবে। তাদেরকে নিয়েও পাঠচক্র করার সুযোগ পাবেন ইনশা আল্লাহ।

ফান্ড কালেকশন করার উপযুক্ত সময় কখন?

  • যখন মানুষ বেশি বেশি দান-সাদাকাহ করে
    • রমাদান মাসে
    • শুক্রবার
    • ঈদের সালাতের পরে
  • যখন মানুষের হাতে টাকা থাকে
    • মাসের শুরুতে
    • ঈদের আগে বোনাস
    • ফসল তোলার মৌসুমে

এই সময়গুলোতে মানষের কাছে যান আপনাদের সফলতাগুলো (প্রচারণা অংশে আলোচিত ছাত্র-অভিভাবকদের কাছ থেকে নেওয়া স্বীকৃতির ভিডিওগুলো ) দেখান।

মনে রাখবেন-

  • পাঠচক্রে দান করা যে সাদাকাহর কাজ তা অধিকাংশ মানুষ বোঝে না
    • দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, মানুষ ভাবে শুধু মাসজিদ-মাদরাসায় দান করলেই সেটি সাদাকাহ। সাদাকাহর আর কোনো খাত নেই।
    • এই ভুল ধারণা ভেঙ্গে দেওয়া জরুরি
    • সাধারন মানুষকে বোঝাতে হবে পাঠচক্রে দান করার গুরুত্ব
      • ইমাম, খতীব সাহেব বা তারা যাদের অনুসরণ করে সেই অনুসরণীয় মানুষদের সাহায্য নিন। পাঠচক্রে সাদাকাহ করার গুরুত্ব দাতাদের বোঝানোর জন্য অনুরোধ করুন।
    • আপনাকে ফান্ড তুলতে সাহায্য করতে পারবেন সম্মানিত ইমাম, আলিম-উলামারা, সোশ্যাল মিডিয়ার সেলিব্রেটি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ
  • আপনার যে ফান্ড লাগবে, তার চাইতে বেশি ফান্ড তুলতে হবে
    • আপনার হয়তো ১০ টাকা প্রয়োজন। তাই ১০ টাকা ফান্ড তুলেছেন। কিন্তু কাজ করার সময় ১২ টাকা খরচ হয়ে গেল। এই ২ টাকা ম্যানেজ করতে গিয়ে বিপদে পড়বেন।
    • এমন সময় আসতে পারে যখন প্রত্যাশিত ফান্ড সংগ্রহ করতে পারবেন না । তখন এই সঞ্চয়কৃত ফান্ড থেকে পাঠচক্রের খরচ দিতে পারবেন ইনশা আল্লাহ

একদম শূন্য থেকে কীভাবে শুরু করব?

আপনি পাঠচক্র করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আপনার হাতে একেবারেই টাকা নেই। এক্ষেত্রে-

  • প্রথম কাজ হলো ফেসবুকে একটি পেইজ খোলা
    • আপনার এলাকার নাম যুক্ত করে একটা পেইজ খুলবেন
    • যেমন- তরুণ সঙ্ঘ মিরপুর, কুষ্টিয়ার তরুণ সমাজ- টাইপের নাম
    • নাম দিবেন সহজ, মানুষ যাতে সহজে পড়তে পারে, নিজেদের সাথে রিলেট করতে পারে
    • অন্য কোনো ইউনিট বা দলের শাখা মনে না করে এমন স্বতন্ত্র নাম হতে হবে
    • অ্যাস্থেটিক নাম দিতে গিয়ে এমন নাম দিবেন না, যেটা পড়তে গিয়ে মানুষের দাঁত ভেঙ্গে যেতে পারে!
  • নিজেস্ব ফান্ড দিয়ে কাজ শুরু করুন
    • প্রত্যেকে ১০/২০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে ১০০ টাকা জমান
    • তারপর ৫০ টাকা দিয়ে ১ টা ষোলো ম্যাগাজিন কিনে পাঠচক্র করুন
    • বাকি ৫০ টাকায় অংশগ্রহণকারীদের গিফট এবং নাস্তার আয়োজন করুন
  • এসবের ছবি, ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিন
  • স্থানীয় মানুষজন, সেলিব্রেটি ও অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্টদের দিয়ে শেয়ার করান
    • ষোলো পেইজে মেসেজ দিয়ে শেয়ার করতে বলুন
    • আরও এমন ভালো কাজ জারি রাখার জন্য অন্যদের সহযোগিতা চাইবেন পোস্টে
    • পেমেন্ট মেথড উল্লেখ করে দিবেন, যেন কেউ চাইলে ডোনেশন দিতে পারে
  • স্থানীয় সচেতন মানুষদের কাছে গিয়ে গিয়ে এই পাঠচক্রের ভিডিও/ছবি দেখিয়ে ফান্ড চান
  • এভাবে ফান্ড পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ
  • নতুন নতুন মানুষও যুক্ত হবে অ্যাক্টিভিজমে

এভাবে পাঠচক্র জারি রাখুন। ছবি-ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিন। ফান্ড চান। সেই ফান্ড দিয়ে আবার পাঠচক্র করুন। এই পুরো প্রক্রিয়াটা চক্রাকারে পুনঃপুনঃ করতে থাকুন। এভাবে জিরো থেকে শুরু করে পাঠচক্রের হিরো হয়ে যেতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

পুনশ্চ: আপনি পাঠচক্রের কাজটা করছেন আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য। তাই এ কাজের জন্য মানুষের কাছে ফান্ড চাইতে লজ্জাবোধ করবেন না। এখানে লজ্জার কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ দ্বীনের প্রয়োজনে ধনাঢ্য সাহাবীদের কাছে ফান্ড চাইতেন। আপনি-আমি কি রাসূলুল্লাহ’র ﷺ চেয়েও বেশি লজ্জাশীল? আমাদের আত্মমর্যাদা কি তাঁর চেয়েও বেশি?

সালাফুস সালিহীনও দ্বীনি কাজে ধনীদের কাছে সহযোগিতা চাইতেন। তাহলে আমরা কেন লজ্জা বোধ করব? মনে রাখবেন, ভালো কাজ করতে হলে কমফোর্ট যোনের বাইরে যেতে হয়। নবী-রাসূলগণ সবসময় কমফোর্ট যোনের বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন। তাই আমাদেরকেও তাই করতে হবে। মনে রাখবেন, সফলতা কখনো কমফোর্ট যোনে এসে ধরা দেয় না।

দাতাদের ধরে রাখার কৌশল

ধরুন আপনার ইউনিটে একজন ব্যক্তি ১০০ টাকা দান করলেন। এখন আপনার কাজ হলো, তাকে ধরে রাখা। সে যেন প্রতি মাসেই আপনাদের ইউনিটে ১০০ টাকা করে সাদাকাহ করে। এ জন্য আপনার কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কৌশলগুলো হলো—

  • তাদের সাথে রেগুলার যোগাযোগ রাখুন
  • একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে পারেন
    • সেখানে পাঠচক্রের নিয়মিত আপডেট জানাবেন
    • সফলতার রিপোর্ট পাঠাবেন
  • আপনাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত পাঠচক্রে তাদেরকে আমন্ত্রণ জানান
  • লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখুন
    • আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখুন
    • সেগুলো দাতাদের সাথে শেয়ার করুন
  • কথা দিয়ে কথা রাখুন
    • মাসে ৪ টি পাঠচক্রের কথা দিয়ে ২ টি করে বসে থাকবেন না, ওয়াদা পূরণ করবেন।
    • তার সাথে প্রতিশ্রুত সময়ে মিটিং করবেন। দেরি করে যাবেন না
  • দাতাদের সুবিধা-অসুবিধা বোঝার চেষ্টা করুন , লজ্জায় ফেলবেন না
    • মাসের শেষে টাকা চাইবেন না, এসময় তার হাতে টাকা নাও থাকতে পারে
    • কোনো মাসে টাকা দিতে না পারার ওজর দেখালে মেনে নিন, চাপ দেবেন না

লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা (আইনগত)

১. এমন কোনো প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির থেকে ফান্ড নেওয়া যাবে না

  • যারা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে যুক্ত
  • বা যুক্ত থাকার কোনো ধরনের সম্ভাবনা আছে
  • সন্দেহজনক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে সন্দেহজনক লেনদেন এড়িয়ে চলতে হবে

২. যার থেকে ব্যক্তিগতভাবে ফান্ড নেওয়া হচ্ছে,

  • বেনামে বা ফেইক আইডি দিয়ে কেউ বড় অংকের টাকা বা মাসিক টাকা দিতে চাইলে সেটাও গ্রহণ করা যাবে না
  • তবে নাম পাবলিকলি বলা যাবে না, কিন্তু আইনিভাবে ও ডোনারদেরকে দেখানো যাবে- এমন শর্ত হলে সমস্যা নেই
  • অনেকেই রিয়ার আশঙ্কা করে গোপনে আমল করতে চাইতে পারেন
  • কিন্তু দাতার নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য আপনার জানা থাকা জরুরি, যেন কখনো প্রশাসনিক অডিট হলে দেখাতে পারেন।

৩. রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে ফান্ড না নেওয়া

  • অনেক রাজনৈতিক দল আপনাকে টাকা দিতে চাইতে পারে
  • তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া যাবে না
  • আপনার ইউনিট তাদের দ্বারা ব্যবহৃত হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে
  • কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের স্বার্থ ছাড়া কিছু করে না
  • কোনো রাজনৈতিক দলের ট্যাগ লেগে গেলে গ্রহণযোগ্যতা হারাবেন
    • ঐ দলকে যারা পছন্দ করে না তারা আপনার কাছে আসবে না
    • আপনাকে ডোনেশন দিবে না
  • ঐ রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ডের আপনার ইউনিটও যুক্ত এমন ধরে নেওয়া হবে যা আপনার ইউনিট ও সদস্যদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ঠেলে দিবে

৪. যে টাকা যেখান থেকেই নেওয়া হচ্ছে তা ভালোমতো লিখিত থাকতে হবে

  • প্রদানকারীর নাম, খরচের খাত, টাকার পরিমাণ সবই থাকবে
    • কত তারিখে টাকা এসেছে তা লিখে রাখবেন
    • কোন মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন সেটিও
  • ক্রাউডফান্ডিং এর ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রত্যেককে যাচাই করা হয়ত সম্ভব হবে না (করতে পারলে খুবই ভালো)
  • তবে যারা টাকা পাঠাবে তাদের মোবাইল নম্বর, ট্রানজেকশন আইডি ও টাকার পরিমাণের হিসাব রাখুন
  • প্রত্যেক খরচ বা লেনদেনেরই মানি রিসিপ্ট/ডকুমেন্টস রাখতে হবে
    • যখন আপনাদের পাঠচক্র বড় হয়ে যাবে, তখন আপনারা একটি ইউনিট বা ক্লাবে পরিণত হবেন
    • তখন লেনদেনের জন্য মানি রিসিপ্ট মেইন্টেইন করুন
    • সেটা ১০০ টাকার জন্যও, ১০ টাকার জন্যও
    • এতে উভয়পক্ষের কাছেই লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে

৫. নিজ ইউনিটের টাকা অন্য কোনো ইউনিটকে দেওয়া যাবে না

আপনি পাঠচক্রের জন্য ফান্ড নিয়েছেন। এই টাকা ক্যান্সার আক্রান্ত কারো চিকিৎসার জন্য বা অন্য এলাকার কোনো অ্যাক্টিভিস্ট ইউনিটকেও দেওয়া যাবে না। কারণ—

  • আপনি ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর জন্য ফান্ড সংগ্রহ করেননি
  • পাঠচক্রের টাকা ক্যানসারের রোগীকে দেওয়া দাতাদের সাথে কথার বরখেলাপ
  • এমন কাজের ফলে আপনি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলতে পারেন
  • আপনি অন্য ইউনিটের জন্য টাকা তুলেননি
  • ঐ ইউনিট কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করে বসতে পারে
    • তাদের উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই
  • তারা আইনি ঝামেলায় পড়তে পারে
  • আর্থিকভাবে সহায়তা করার কারণে আপনারাও আইনি ঝামেলায় পড়বেন

লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা (সাধারণ)

১. ফান্ড নেবার আগে ভদ্র ভাষায় স্পষ্ট করে দিন

  • আপনার মিশন ও ভিশন
  • পাঠচক্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনার ডোনাররা যেন অযাচিত হস্তক্ষেপ না করেন

২. সকল হিসাবের অনলাইন কপির ব্যাকআপ অন্তত দুই জায়গায় রাখুন

  • এক কপি হারিয়ে গেলে/ডিলিট হয়ে গেলে/ডিভাইস ক্র্যাশ করলেও আরেক কপি থাকে

খুব গুরুত্বপূর্ণ

১. ডোনেশন ও ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখতে হবে

  • দাতা, প্রশাসন, দায়িত্বশীল ইত্যাদির যে কেউ হিসাব দেখতে চাইলে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে যেকোনো সময় হিসাব দেখাতে পারেন
  • গুছিয়ে হিসাব রাখার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন
  • আমরা কিছু ডেমো শেয়ার করতে পারব ইনশাআল্লাহ
  • সফলতার রিপোর্ট তৈরিতেও সাহায্যের জন্য স্যাম্পল দিতে পারব

২. ফান্ড ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব একজন নির্দিষ্ট সদস্যকে (অর্থ সম্পাদক) দিন

  • আপনি একা হলে আপনিই হিসাব রাখুন
  • ইউনিটে সদস্য বেশি হলে নির্দিষ্ট একজনকে দায়িত্ব দিতে পারেন
  • তার কাজই হবে ফান্ডের হিসাব-নিকাশ রাখা

৩. ইচ্ছেমতো খরচ করা যাবে না

  • এই টাকা উম্মাহর টাকা
  • আমানত রক্ষা করুন
  • অপচয় করা যাবে না

ষোলো নিয়ে কাজ করার জন্য আপনাকে শুকরিয়া। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনাকে ও আমাদেরকে কবুল করুন। পথহারা ভাইদের পথ দেখানোর উসীলা হিসাবে আমাদের কবুল করুন। আমীন।

জাযাকাল্লাহু খাইরান।

শেয়ার করুনFacebookWhatsAppMessenger

সম্পর্কিত লেখা