অ্যাক্টিভিজমের আদবকেতা (প্রথম পর্ব)

এক.
প্রশংসা আমাদের কাজে উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার এটা আমাদের ধ্বংসেরও কারণ হতে পারে। সামনাসামনি প্রশংসার দ্বারা অহমিকা সৃষ্টি হয়। এমন প্রশংসাকে হাদীসে ধ্বংসের কারণ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু মুসা আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির প্রশংসা করতে শুনে বলেন, “তোমরা তাকে ধ্বংস করে দিলে বা তোমরা তার মেরুদণ্ড ভেঙে ফেললে।” [১]
প্রশংসা করার ব্যাপারে আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে, সামনাসামনি প্রশংসা করার ক্ষেত্রে। ফেইসবুকে প্রশংসা করাও এক অর্থে সামনাসামনি প্রশংসা করার মধ্যে পড়ে। কারণ, যার প্রশংসা করা হচ্ছে সেও তো এসব দেখছে বা জানছে।
কোনো হকপন্থী আলিম বা অ্যাক্টিভিস্টদের মানুষের কাছে পরিচিত করিয়ে দেবার জন্য তাঁদের লেখা বা বক্তব্যের প্রশংসা করার দরকার পড়তে পারে। যেন সাধারণ মানুষ তাঁদের গুরুত্ব বা অবদান বুঝতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রেও তাদের লেখা বা বক্তব্যের সামনাসামনি প্রশংসা করা উচিত না। ‘ভাইয়ের কথা যেন আগুন’, ‘ভাইয়ের চেহারা বেশ নূরানী মা শা আল্লাহ আর কণ্ঠটাও কতো সুন্দর’, ‘ভাইয়ের লেখার হাত অসাধারণ’, ‘সেই অস্থির লিখছেন ভাই’, ইশ ভাই, আপনার মতো যদি লিখতে পারতাম’… এভাবে প্রশংসা করলে ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করা হয়।
এর বদলে পোস্ট/ভিডিও শেয়ার করার সময় ক্যাপশনে লেখা যেতে পারে-এই ভিডিওটি শুনুন। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আছে। এই লেখায় অমুক সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়েছে, পড়ুন আর শেয়ার করুন।
আশা করি, মূল থিমটা ধরতে পেরেছেন। যাদের প্রশংসা করছি, আমরা যদি আসলেই তাদের ভালোবাসি ও ভালো চাই, তাহলে এমন প্রশংসা কি করবো যা তাদের ক্ষতি করে? ঠিক একইভাবে কেউ যদি আমাদের প্রশংসা করে, তাহলে তাদের সংশোধন করে দিতে হবে। মনে রাখা জরুরি, আমরা মানুষের প্রশংসা পাবার জন্য কাজ করি না। আমরা কাজ করি আল্লাহর জন্য।
তবে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। একে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। স্বীকৃতি দেওয়া যায় সরাসরি প্রশংসা না করেও—যেমন, চেইন অব কমান্ডের সিনিয়রদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, উপহার দেওয়া, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া, বেশি বেশি সময় দেওয়া বা পরামর্শ চাওয়া—এসবই এমন সম্মান ও স্বীকৃতির রূপ, যা উৎসাহ বাড়ায় কিন্তু অহমিকা তৈরি করে না।
দুই.
একজন মুসলিম ভাইয়ের উচিত অন্য মুসলিম ভাইয়ের ব্যাপারে সুধারণা রাখা। একজন ভাইয়ের ব্যাপারে অভিযোগ শুনেছিলাম তিনি অমুক ভাইকে সম্মান করেন না। অথচ সেই অভিযুক্ত ভাইয়ের বক্তব্য ছিল এমন – ভাই উনি যদি আমাকে বলেন যে ১ হাজার বার কান ধরে উঠবস করতে হবে আমি তাই করব কোনো প্রশ্ন ছাড়া।
অ্যাক্টিভিজমের সময় সব ভাইয়ের সঙ্গে সবার মতামত মিলবে না। সবাইকে সবার পছন্দ হবে না। সুধারণা রাখতে হবে একে অপরের প্রতি। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনতে হবে। আর যেটা প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে- যে ভাইয়ের সাথে আমার মত মিলছে না তিনি কি শরীয়ার গন্ডির ভেতরে আছেন না বাইরে।
চলবে ইনশা আল্লাহ...
—
[১] বুখারী : ২৬৬৩
return (
return (
return (
return (
return (