Activism Lab

সামাজিক শক্তি অর্জনের কাজসহ সামগ্রিকভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে তরুণদের উৎসাহ উদ্দীপনা ধরে রাখার উপায় - (দ্বিতীয় পর্ব)

এনামুল হোসাইন শাওন
আলোকিত পথের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন মানুষ

দুই.

একবার এক ফেইসবুক পোস্টে দেখেছিলাম একজন প্রশ্ন করেছে – বাংলাদেশের তরুণদের যিনা-ব্যভিচার থেকে বাঁচানোর জন্য বিয়ে দেওয়া দরকার। কিন্তু বিয়ে তো অনেক কঠিন। তাহলে করণীয় কী? অনেকের অনেক কমেন্ট সে পোস্টে। বেশ কিছু কমেন্ট পেলাম এমন – শরীয়াহ আইন কায়েম করতে হবে। খিলাফাহ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

এই বিষয়ে মন্তব্য করার আগে অন্য একটা ঘটনা বলি। ধরুন, বিজ্ঞান পরীক্ষায় প্রশ্ন এসেছে, আকাশ কেন নীল দেখায়? আপনি উত্তরে লিখলেন – আল্লাহ আকাশকে নীল বানিয়েছে তাই আকাশ নীল দেখায়। আপনার উত্তর ঠিক আছে। কিন্তু আপনি শূন্য পাবেন। উপরের বিয়ে সংক্রান্ত পোস্টের কমেন্টগুলোও এমন। শরীয়াহ আইন কায়েম করতে হবে, খিলাফাহ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে – ঠিক আছে। কিন্তু আপনি তা কিভাবে করবেন?

কোনো তত্ত্ব কথা না। বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, মানুষ সবকিছু মাথায় নিয়ে বাস্তবিক পরিকল্পনা দিন এভাবে এভাবে আমরা শরীয়াহ আইন কায়েম করব। অমুক ফর্মুলা অনুসরণ করে বাংলাদেশের মতোই একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী কোনো দেশ সফল হয়েছে- এরকম কোনো উত্তর তো ভাই আপনারা দিচ্ছেন না। আবার অনেকে কিছু উত্তর দিবেন যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না তা উনারা নিজেরাও জানেন। যেহেতু বাস্তবায়ন করা এখন সম্ভব না তাই এখন কিছুই করার নাই। হাত গুটিয়ে থাকি। অমুক ভাইয়ের সাথে অমুক ভাইয়ের গ্যাঞ্জাম লাগছে। যাই একটু কমেন্ট করে আসি। শরীয়াহ বাস্তবায়ন করা ছাড়া সমস্যার একেবারে সমাধান হবে না। এটা সত্য। কিন্তু সমস্যা লঘু করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায় না হাত গুটিয়ে বসে না থেকে অভিভাবকদের বোঝানো, বিয়ে নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগা মানুষদের ভুল ভাঙানো, ৩০+ বছর বয়সী বালকদের পুরুষ হতে,দায়িত্ব নিতে শেখানো- এরকম আরও অনেক কিছু করার আছে।

এখন খিলাফাহ নাই। তাই আমরা শুধু বাচ্চাছেলের মতো নাই নাই করে কান্না করব নাকি যা আছে তাই নিয়ে পরিস্থিতির সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করব? ইসলাম আমাদের কী শেখায়?

মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে নিয়ে ছুটছেন। পেছনে ধেয়ে আসছে ফেরাউনের বিশাল বাহিনী। সামনে সাগর পড়ল। পালাবার পথ নেই। আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালামকে বললেন তোমার হাতের লাঠি দ্বারা আঘাত করো সাগরে। তিনি আঘাত করলেন। সঙ্গে সঙ্গে সাগরে ১২ টা রাস্তা হয়ে গেল। মরিয়ম আলাইহাস সালাম নির্জনভূমিতে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন। আশেপাশে কেউই নেই। উনি শুয়ে আছেন খেজুর গাছের নিচে। খাবার দরকার। শরীরে শক্তি দরকার। কিন্তু উঠে দাঁড়িয়ে খেজুর গাছ থেকে খেজুর পাড়ার শক্তি উনার অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ বললেন, তুমি পা দিয়ে খেজুর গাছে ধাক্কা দাও। মরিয়ম আলাইহাস সালাম খেজুর গাছে ধাক্কা দিলেন পা দিয়ে। খেজুর পড়ল।

এখন এই ২টি ঘটনা নিয়ে একটু ভাবা যাক। লাঠির আঘাতে কখনো সাগরে মধ্যে রাস্তা তৈরি হয়? খেজুর গাছের কান্ড মারাত্মক শক্ত হয়। আম গাছ বা বরই গাছে ঝাকি দিয়ে ফল পাড়ার মতো খেজুর গাছে ধাক্কা মেরে, ঝাকি মেরে ফল পাড়া যায় না এটা যারা খেজুর গাছ দেখেছেন তারাই জানেন। তাহলে আল্লাহ কেন মূসা আলাইহিস সালামকে বললেন লাঠি দিয়ে সাগরে আঘাত করো? কেনই বা মরিয়ম আলাইহিস সালামকে পা দিয়ে খেজুর গাছে ধাক্কা দিতে বললেন? এই দুই ঘটনা থেকেও আলেমগণ আমাদের জানিয়েছেন- আল্লাহ এই দুই ঘটনা থেকে মানুষকে দুনিয়ার নিয়ম শেখাচ্ছেন – বান্দা আল্লাহর উপর ভরসা করে তাঁর পক্ষে যতোটুকু করা সম্ভব করবে (মূসা আলাইহিস সালামের লাঠি দিয়ে সাগরে আঘাত করা, মরিয়ম আলাইহাস সালামের পা দিয়ে খেজুর গাছে ধাক্কা দেয়া), এরপর আল্লাহ তায়ালা বাকিটা করবেন।

আমাদের কাজটুকু আমাদের করতে হবে। আমরা কি সেই কাজটুকু করছি?

তিন.

অতিরিক্ত অনলাইন নির্ভরতা আমাদের জীবনের নানা দিককে প্রভাবিত করছে, বিশেষত মানসিক ও সামাজিক দক্ষতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত অনলাইনে সময় কাটানোর ফলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে:

  1. ডোপামিন আসক্তি: ব্রেইনের ডোপামিন সার্কিট অতিরিক্ত উদ্দীপনায় অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে আমরা ক্রমাগত আরও বেশি ডোপামিন রিলিজকারী কাজ খুঁজে বেড়াই। এর ফলে, গভীর মনোযোগ ও ধৈর্য প্রয়োজন এমন কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ছি।
  2. বাস্তব কাজের প্রতি অনাগ্রহ: ডোপামিনের উচ্চতর সুখের অভ্যাসের কারণে অফলাইনের কার্যক্রম যেমন ব্যায়াম, সম্পর্ক তৈরি বা সুস্থ জীবনযাপনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। ফলে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য অবনতি ঘটছে।
  3. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: অনলাইনে বেশি সময় কাটানোর ফলে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ার দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস কমে গেছে। আমরা মানুষদের সাথে বাস্তবিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি।
  4. স্বাস্থ্যগত সমস্যা: রাত জাগা, অনিয়মিত খাবার, ব্যায়ামের অভাব ইত্যাদি আমাদের শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

তরুণদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা

অনলাইনের বাইরে এই সমস্যাগুলোর পেছনে আরও কিছু অভ্যন্তরীণ কারণ রয়েছে, যেমন:

  • সেলিব্রেটিজম ও ভাইরাল হবার আকাঙ্ক্ষা
  • আকীদার গভীরতা না থাকা
  • ইখলাসের অভাব

তো কারণ নিয়ে অনেক আলোচনা করা হলো। এবার আসবে সমাধান। কিভাবে সামাজিক শক্তি অর্জনের কর্মসূচীগুলো তরুণদের এই সমস্যাগুলো দূর করতে পারে।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

শেয়ার করুনFacebookWhatsAppMessenger

সম্পর্কিত লেখা