কিভাবে কার্যকরভাবে পোস্টারিং করতে হয়?

উদ্দেশ্য
জনসচেতনতা তৈরি, গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা ছড়িয়ে দেয়া, ইউনিটের প্রচারণা, নির্দিষ্ট কোনো ইস্যুতে জনমত তৈরি করা।
প্রাথমিক প্রস্তুতি
● হোয়াটসএপে একটি টিমভিত্তিক কমিউনিকেশন গ্রুপ খুলুন।
● গ্রুপে প্রত্যেক টিমের জন্য টপিক খুলে দায়িত্ব ভাগ করে দিন।
● প্রস্তুতি মিটিংয়ে:
- লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হবে
- SOP ব্যাখ্যা করা হবে
- টিম গঠন করা হবে এবং প্রতিটি টিমের লিডার ঠিক করা হবে
- ইভেন্ট টাইমলাইন ও ওয়ার্কফ্লো আলোচনা করা হবে
● প্রস্তুতি মিটিং শেষে মিনিট মিনিটস ও চেকলিস্ট গ্রুপে দিয়ে দিন
টিমের কাঠামো ও দায়িত্ব বণ্টন-
● প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা:
- ক্যাম্পেইন প্রধান হিসেবে কাজ করবেন।
- কোন নির্দিষ্ট কাজে জড়িত না থেকে পুরো ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবেন।
- সব টিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।
- সিদ্ধান্ত দেবেন, ঝুঁকি মোকাবেলা করবেন।
- প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ পরিকল্পনা, ফার্স্ট-এইড ও গুরুত্বপূর্ণ ফোন নাম্বার রাখবেন।
● প্রত্যেক টিমে থাকবে:
- ১ জন টিম লিডার – যে সকল কাজ তদারকি করবে, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিবে, প্রধান সমন্বয়কের কাছে রিপোর্ট জমা দিবে।
- ২-৩ জন সদস্য – যারা নির্দিষ্ট কাজ বাস্তবায়ন করবে।
● সদস্য সংখ্যা ক্যাম্পেইনের আকারের ভিত্তিতে কমবেশি হতে পারে।
● কমান্ড চেইন-
○ টিমের সদস্য ➜ টিম লিডার ➜ প্রধান সমন্বয়ক
○ সদস্যরা রিপোর্ট করবে নিজের টিম লিডারকে
○ টিম লিডারগণ রিপোর্ট করবেন প্রধান সমন্বয়কের কাছে
○ টিম লিডারগণ একে অপরকে নির্দেশনা দিবেন না, সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন
○ টেলিগ্রাম গ্রুপ হবে প্রধান যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম

প্রশিক্ষণ (প্রধান সমন্বয়ক)
নতুন সদস্যদের জন্য সংক্ষিপ্ত পোস্টারিং ও আচরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করা।
বার্তা/ম্যাসেজ (কনটেন্ট ও ডিজাইন টিম)
- বার্তা নির্বাচন: পোস্টারের বার্তা যেন মুহূর্তেই চেতনাকে নাড়া দেয়—সংক্ষিপ্ত, প্রাসঙ্গিক এবং প্রতিবাদী হওয়া জরুরী। Activism poster মূলত এমন হতে হবে যাতে চোখে পড়ে ও চিন্তায় আঘাত করে। ইস্যু অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক বার্তা নির্বাচন করতে হবে। অত্যাধিক তথ্য দেয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- বার্তার টার্গেট অডিয়েন্স বিবেচনা: যে শ্রেণিকে টার্গেট করা হচ্ছে (যেমন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, খেঁটে খাওয়া মানুষ), তাদের চিন্তা-চেতনা ও বাচন ভঙ্গি বুঝে বার্তা/বয়ান নির্মাণ করতে হবে।
- সাংস্কৃতিক সচেতনতা: স্থানীয় সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বুঝে বার্তা ও ছবি বাছাই করতে হবে; সৌজন্য ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে, যাতে করে বিরূপ প্রতিক্রিয়া না আসে। শরিয়াহর বিধান ও মেজেজের সাথে বেমানান এমন ডিজাইন করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
ডিজাইন ও কন্টেন্ট তৈরি (কনটেন্ট ও ডিজাইন টিম)
- সাইজ: 18×24 inch বা 24×36 inch এই দু’টি পোস্টারের স্ট্যান্ডার্ড সাইজ।

● ফন্ট ও টাইপোগ্রাফি:
- হেডিং: মোটা, স্পষ্ট ও দূর থেকে পড়ার উপযোগী (যেমন: Hind Siliguri, Anek Bangla)
- বডি: সহজপাঠ্য ও ব্যালেন্সড হতে হবে (যেমন: Kalpurush, Noto Sans Bengali)
● হাই কনট্রাস্ট কালার: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো বা গাঢ় রঙের লেখা, বা এর উল্টোটাও করা যেতে পারে। কালার হুইলের মাধ্যমে সম্পূরক রং ও বিভিন্ন শেড নির্ধারণ করা যায়। বিস্তারিত জানতে - https://www.canva.com/colors/color-wheel/

● ৩০% টেক্সট, ৭০% ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট - এই রুল অনুসরণ করতে পারলে ভালো।
● শক্তিশালী, চোখে পড়ার মতো ডিজাইন-টাইপোগ্রাফি হতে হবে। কালার কম্বিনেশন ও ফন্ট সিলেকশন এমন হতে হবে যেন দূর থেকেও মূল বার্তা চোখে পড়ে ও বোঝা যায়।
● ভিজ্যুয়াল হায়ারার্কি: পোস্টারের মধ্যে কোন তথ্যটা আগে চোখে পড়বে, কোনটা পরে—এই হায়ারার্কি যেন পরিকল্পিত হয়। বড় হেডলাইন, মিড-সাইজ সাব-হেডিং, ছোট সাইজ তথ্য/ডিটেইল।
ডিজাইন উদাহরণ:

- ডিজাইন টিম: একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে দায়িত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক ড্রাফট একজন অভিজ্ঞ ডিজাইনার ও একাধিক অভিজ্ঞ সংগঠককে দেখিয়ে ন্যূনতম দুই ধাপে রিভিউ নিশ্চিত করুন । কোথাও ভুল বানান যেন না থাকে তা নিশ্চিতকরণে প্রুফ রিড করিয়ে নিন। পরিমার্জন শেষে ফাইনাল ডিজাইন দায়িত্বশীল অভিজ্ঞ সংগঠক এপ্রুভাল দিবেন।
- ফাইল ফরম্যাট: Ai, PNG, PDF ইত্যাদি ফরম্যাটে ডিজাইন করতে হবে। প্রিন্টিং এর জন্য সর্বোত্তম Ai ফরম্যাট। প্রেসের সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী ফরম্যাট বেছে নিন। তবে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার জন্য বেশ কয়েকটি ফরম্যাট প্রস্তুত করে রাখুন।
- লোগো ও সোশ্যাল মিডিয়া লিংক যুক্ত করা: ইউনিটের নাম ও লোগো ডিজাইনে থাকতে হবে। ইউনিটের প্রচারণার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ইউনিটের সোশ্যাল মিডিয়া পেজের নাম ও লিংক QR কোড আকারে ডিজাইনে যুক্ত করতে পারেন। পাশাপাশি QR কোডের মাধ্যমে ভিডিও মেসেজ, ওয়েবসাইট বা ইভেন্ট লিংক সংযুক্ত করা যেতে পারে।
- আজকাল অনেক সময় ডিজিটাল পোস্টারই মূলত বেশি ছড়ায়; সেক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জন্য পোস্টারের ডিজিটাল ভার্সন অপটিমাইজ/প্রস্তুত করতে হবে বিভিন্ন বিষয় (Facebook ratio, story format, ট্রেন্ড ইত্যাদি) মাথায় রেখে।
প্রিন্টিং ও ম্যাটেরিয়ালস (প্রিন্টিং টিম)
● প্রিন্টিং: এলাকার প্রিন্টিং প্রেস সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে রাখতে হবে। খরচ কেমন পড়বে তা হিসেব করে নিন। পরিমাণে বেশি পোস্টার প্রিন্ট করলে খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। তাই সম্ভব হলে বেশি পরিমাণে প্রিন্ট করাতে হবে।
● প্রাপ্তিস্থান:
- টঙ্গী বাজার
- পল্টন: আজাদ প্রোডাক্টস-এর গলি দিয়ে ঢুকে কিছুদূর গেলেই বেশ কিছু প্রিন্টিং এর দোকান আছে।
- এছাড়াও বাংলাবাজার ও নীলক্ষেতে প্রিন্টের দোকান আছে।
● পরিমাণ নির্ধারণ: বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর ক্ষেত্রে ৫০০–১০০০ কপি বা এর বেশিও লাগতে পারে। অতিরিক্ত কিছু কপি রাখতে হবে প্রয়োজনে। পরিমাণে অধিক প্রিন্ট করালে কিছু পোস্টার টাকার বিনিময়ে বা বিনামূল্যে অন্য কোনো ইউনিটকে সরবরাহ করতে পারেন।
● প্রিন্টিং কোয়ালিটি চেক: প্রিন্টিংয়ের পর অন্তত একটি কপি রিভিউ করে নিন। ভুল থাকলে সাথে সাথে প্রেসে জানান। সমস্যা এড়ানোর জন্য হাতে কিছুদিন সময় রেখে প্রিন্টিংয়ে দিন।
খরচ: পোস্টারের পরিমান যত বাড়বে পোস্টার প্রতি খরচ তত কমবে। ১০০০ কপি প্রিন্ট করালে সাধারণত পোস্টার প্রতি খরচ ৪/৫ টাকা পড়ে। আরও বেশি পরিমাণে করালে খরচ আরও কিছুটা কমতে পারে। নিজেরা প্রেসে গিয়ে প্রিন্ট করিয়া নেয়ার সুযোগ না থাকলে অনলাইনেও অর্ডার করা যায়। সেক্ষেত্রে এক্সট্রা ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। অনলাইনে অর্ডার করা যাবে এই পেইজগুলোয়-
Mashhadah Fragrance MuwahhidaH
পোস্টার সংগ্রহ ও সংরক্ষণ (লজিস্টিক্স টিম)
● পোস্টার সংগ্রহের স্থান:
○ প্রিন্টিং টিমের কাছ থেকে পোস্টার সংগ্রহ করবে লজিস্টিক্স টিম। একজন নির্ধারিত দায়িত্বশীলের কাছ থেকে বাকীরা বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাটানোর জন্য সংগ্রহ করবেন।
● সংরক্ষণ কৌশল:
○ পোস্টার রোল করে একটি শক্ত কাগজের বক্স বা টিউবে রাখা; ইলাস্টিক দিয়ে বেঁধেও রাখা যেতে পারে।
○ ভাঁজ না করা; ভেজা স্থান বা রোদ থেকে দূরে রাখা।
আঠা তৈরি ও সংরক্ষণ (লজিস্টিক্স টিম)
● উপকরণ:
○ ময়দা ১ কাপ
○ পানি ৪ কাপ
○ একটু লবণ
○ চাইলে সামান্য ভিনেগার (সংরক্ষণের জন্য)
○ বেশি আঠা প্রয়োজন হলে এই অনুপাতে উপকরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে আঠা প্রস্তুত করে নিতে হবে।
● প্রস্তুত প্রণালি:
○ একটি হাঁড়িতে পানি গরম করতে থাকুন। অন্য পাত্রে ময়দা ও ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
○ ধীরে ধীরে তা গরম পানিতে ঢেলে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না ঘন হয়ে আসে।
○ ঠাণ্ডা হলে বোতলে সংরক্ষণ করুন। এভাবে প্রস্তুতকৃত আঠা ৩-৫ দিন ভালো থাকে।
● সংরক্ষণের নিয়ম:
○ কাঁচ/প্লাস্টিকের বোতলে রাখুন।
○ সরাসরি রোদ বা তাপ থেকে দূরে রাখতে হবে।
○ ব্যবহারের পর ঢাকনা ভালোভাবে লাগিয়ে রাখুন।
● এভাবে আঠা বানানোর সুযোগ না থাকলে বাজার থেকে আইকা গাম কিনে ব্যবহার করা যাবে। Fevicol SH 500gm – ২০০/২৫০ টাকা, Fast Synthetic Resin Adhesive (FA-27) 500 gm – ১৭০/২০০ টাকা।
পোস্টারিং কার্যক্রম (ফিল্ড টিম)
ফিল্ড টিম গঠন:
○ স্ট্রাকচার:
○ একাধিক স্থানে একসাথে পোস্টারিং এর জন্য একাধিক সাবটিম বানানো লাগতে পারে
- প্রতি সাবটিমে সদস্য সংখ্যা হবে ৩–৫ জন বা প্রয়োজনভেদে কম/বেশী (কমপক্ষে দুইজন অভিজ্ঞ সদস্য থাকা আবশ্যক।)
- একজন থাকবে পোস্টার ক্যারিয়ার ও গাম ইনচার্জ
- একজন পোস্টার সাটাবে
- একজন জনসাধারণের সাথে কথোপকথন ও ফিডব্যাক নেবার দায়িত্বে (অভিজ্ঞ সদস্য)
- একজন থাকবে ছবি/ভিডিও তোলার জন্য
- প্রতিটি সাবটিমের নির্দিষ্ট একজন লিডার থাকবে যার দায়িত্ব থাকবে টিমের কার্যক্রম মনিটর, সমন্বয়, রিপোর্টিং ও সমস্যা সমাধান করা (অভিজ্ঞ সদস্য হওয়া আবশ্যক)
● স্থান নির্বাচন:
○ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, টার্গেট অডিয়েন্স ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে স্থান নির্বাচন করুন।
○ বিশ্ববিদ্যালয়/স্কুল/কলেজের আশপাশ, মসজিদের বাইরে, বাজার/মার্কেট – যেখানে মানুষের চলাফেরা বেশি এমন জায়গায় রাস্তার মোড়ে খুঁটি, বৈদ্যুতিক খাম্বা, দেয়াল, বন্ধ দোকানের শাটারে পোস্টারিং করা যেতে পারে।
○ পোস্টার এমন জায়গায় লাগাতে হবে যাতে বার্তা চোখে পড়ে এবং আইনগত বা প্রশাসনিক ঝামেলা না হয়।
○ যেগুলো এড়ানো উচিত:
– বাসার গেট, বাড়ির দেয়াল (যদি অনুমতি না থাকে)
– সরকারি অফিস বা আদালত প্রাঙ্গণ
○ রুট প্ল্যান:
– আগেই এলাকায় পোস্টারিং এর জন্য নির্দিষ্ট পয়েন্ট ঠিক করে নিতে হবে।
– একটি লোকেশন ম্যাপ তৈরি করা যেতে পারে যেখানে কোথায় কোথায় পোস্টার লাগানো হবে তা চিহ্নিত থাকবে। এতে পোস্টারিং/ফিল্ড টিমের কাজ দ্রুত ও সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে।
○ ব্যাকআপ লোকেশন প্ল্যান: যদি কোনো এলাকায় পোস্টারিং সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প স্থান আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখতে হবে।
● সময়: জনসমাগম বেশি হয় এমন সময় পোস্টারিং করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করলে বা দিনে পোস্টারিং করার সুযোগ না থাকলে রাত অথবা ফজরের আগ মুহূর্তে পোস্টারিং করুন। তবে বিশেষ কোনো সমস্যা না থাকলে সবসময় চেষ্টা করুন দিনের বেলা পোস্টারিং করতে। জনসমাগম বেশি এমন সময় পোস্টারিং করলে আপনার মেসেজ সহজে ও অধিক কার্যকরভাবে ছড়িয়ে পড়বে ইনশা আল্লাহ। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা যেখানে সবসময় মানুষের আনাগোনা থাকে এমন স্থানে দুপুর বা বিকেলের দিকে পোস্টারিং করলেও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
● টিম ব্রিফিং: পোস্টারিংয়ের আগে একটি ছোট ব্রিফিং সেশন রাখা উচিত, যাতে সবাই জানে কী করণীয়, কোথায় কাজ করা হবে, কে কাকে রিপোর্ট করবে, কীভাবে পোস্টার লাগাতে হয়, কোথায় লাগানো নিরাপদ, ছবি তোলার নিয়ম, জনসাধারণের সঙ্গে আচরণ কেমন হবে, ন্যারেটিভ কি হবে ইত্যাদি
● নিরাপত্তা নির্দেশনা:
○ রাতের বেলায় ৩ জনের নিচে একা বের না হওয়া।
○ পরিচিত রুট ব্যবহার করা।
○ যেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কর্তৃপক্ষ পোস্টারিং ভালোভাবে নেয় না, সেখানে বাড়তি সতর্কতা ও বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন। আইনের গন্ডির মধ্যে থেকে কাজ করার চেষ্টা করুন। অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা করা থেকে বিরত থাকুন।
○ প্রয়োজনে টিম মেম্বারদের পরিচয়পত্র বা অনুমতি পত্রের কপি সঙ্গে রাখা যেতে পারে। বাকবিতন্ডায় না জড়ানো, অনর্থক শত্রু তৈরি না করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকুন।
○ কোনো সমস্যা হলে তৎক্ষণাৎ টিম লিডার বা দায়িত্বশীলকে জানান।
○ পুলিশি বাধার সম্মুখীন হলে নম্রভাবে জায়গা পরিবর্তন করুন ও দায়িত্বশীলদেরকে জানান।
● চেকলিস্ট তৈরি: পোস্টারিংয়ের আগের ও পরের জন্য একটি চেকলিস্ট রাখা যেতে পারে (যেমন: পোস্টার, গাম, ব্রাশ, ক্যামেরা, রুট প্ল্যান ঠিক আছে কি না)।
● পূর্বের পোস্টার অপসারণ বা কভারিং নীতিমালা: যদি ঐ এলাকায় পূর্বে পোস্টার লাগানো থাকে, সেটা ঢেকে ফেলা হবে নাকি নতুন পোস্টার আলাদা জায়গায় লাগানো হবে—তা নির্ধারিত থাকা। অন্য কোনো ইউনিটের পোস্টার বা ধর্মীয় দেয়ালচিত্রের উপর পোস্টার না লাগানো। অপ্রয়োজনীয় শত্রু বানানো বা বাকবিতন্ডায় জড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
● পরিবেশ ভাবনা:
○ পোস্টারে এমন কোন কাগজ বা আঠা ব্যবহার না করা যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
○ পোস্টারিংয়ের সময় আশেপাশে নোংরা না করা। কাজ শেষে পোস্টারিং স্থল পরিষ্কার করে রাখা।
● পোস্টারিং শেষ করার পর করণীয়
○ ব্যবহৃত জিনিস গুছিয়ে রাখা
○ আঠার বোতল ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা
○ ছবি/ভিডিও গুলো নির্দিষ্ট গুগল ড্রাইভ/ফোল্ডারে আপলোড
○ প্রধান সমন্বয়কের কাছে ফিডব্যাক/রিপোর্ট জমা দেয়া (একটি ডক ফাইল বা ম্যাসেজের মাধ্যমে হতে পারে)
○ টিমের সদস্যদের সাথে নাস্তা-পানি করা, ট্রিট দেয়া। তাদের কাজকে অ্যাপ্রিশিয়েট করা, কাজে অনুপ্রেরণা দেয়া।
কমিউনিটি ইনভলভমেন্ট (ফিল্ড টিম)
● স্থানীয় দোকানি বা পথচারীদের যুক্ত করা: স্থানীয় লোকদের কাছে মেসেজ পৌঁছাতে পোস্টারিং-এর সময় ইস্যু সম্পর্কে কথা বলা বা বা লিফলেট দেওয়া। ইউনিট সম্পর্কেও জানানো, পোস্টারিং বা ইউনিটের কাজে যুক্ত হবার আহব্বান জানানো। তাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে মার্জিত ভাষায় সেগুলোর উত্তর দেয়া। এতে করে আস্থা অর্জন ও ইউনিটের প্রচারণার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া অনেকে ইউনিটের কাজ দেখে সরাসরি বা আর্থিকভাবে সংযুক্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতে পারে। এজন্য তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য (নাম, ফোন নম্বর ইত্যাদি) সংগ্রহ করে রাখতে হবে। ইউনিটের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতেও তাদের যুক্ত করে নিতে হবে। তাদের সাথে দ্রুত ফলোয়াপ করতে হবে।
● কমিউনিটি ফিডব্যাকের ব্যবস্থা: কেউ চাইলে পোস্টারিং নিয়ে ফিডব্যাক দিতে পারে এমন একটি সহজ মাধ্যম (QR কোড, Facebook পেইজ লিঙ্ক) সংযুক্ত করা। এছাড়া পোস্টারিং-এর সময় কাজের ইমপ্যাক্ট নিয়ে (পোস্টারিং সমাজে কিভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, আপনাদের কেমন লাগছে, প্রয়োজনীয় মনে করেন কিনা ইত্যাদি) প্রত্যক্ষদর্শী বা আগ্রহী পথচারীদের সংক্ষিপ্ত ভিডিও সাক্ষাৎকার নেয়া। এই সাক্ষাৎকারগুলো মিডিয়া টিম সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণার জন্য ব্যবহার করবে। তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক নেয়ার জন্য ফরম/খাতা-কলম নিয়ে যেতে পারেন।
ডক্যুমেন্টেশন ও রিপোর্টিং (ফিল্ড টিম)
● ছবি/ভিডিও তোলার নির্দেশনা:
○ পোস্টারের ক্লোজ-আপ
○ একাধিক স্পটে পোস্টারিং করা অবস্থায় পুরো টিমের ছবি
○ এলাকার উল্লেখযোগ্য কোনো স্থান/স্থাপনার সাথে পোস্টারের ছবি
○ ‘Before-After’ শট: কিছু এলাকায় আগে (পোস্টার ছাড়াই) ও পরে (পোস্টারসহ) ছবি তোলা যেতে পারে যাতে প্রভাব বোঝানো যায়।
○ ক্যাম্পেইনের গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় অংশগুলোর বিভিন্ন অ্যাংগেল থেকে ভিডিও ধারণ করা। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকারগুলোর ভিডিও করা। পরবর্তীতে ভিডিওগুলো ব্যবহার করে প্রচারণার জন্য ক্যাম্পেইনের টিজার ভিডিও পোস্ট করা।
● রিপোর্টিং:
○ দিনশেষে নির্দিষ্ট ফোল্ডারে ছবি আপলোড ও মিডিয়া টিমকে নোটিফাই করা। মিডিয়া বিভাগে পাঠানোর সময় ডেটা সিস্টেমেটিক রাখা (দিন-স্থান অনুযায়ী ফোল্ডার করা)।
○ দায়িত্বশীলের কাছে রিপোর্ট জমা দেয়া।
■ রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে:
- তারিখ
- জায়গার নাম
- টিম সদস্যদের নাম
- মোট কতটি পোস্টার লাগানো হয়েছে
- কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা যা মিডিয়া প্রচারণার জন্য ব্যবহার করতে পারবে
মিডিয়া প্রচারণা (মিডিয়া টিম)
• ক্যাম্পেইনের আগে হাইপ তৈরি করার জন্য ‘নতুন কিছু আসছে’, ‘আলাদা কিছু আসছে’ – এমন ক্যাপশন ব্যবহার করা। পোস্টারের সোশ্যাল মিডিয়া ভার্শন পোস্ট করা। ক্যাম্পেইনের ম্যাটেরিয়ালস প্রস্তুত করার সময় ছবি তুলে তা পোস্ট করা। কবে কোন এলাকায় কাজ করা হবে তা আগের দিন পোস্ট করে জানিয়ে দেয়া।
• ক্যাম্পেইনের দিন কাজ শুরুর সময় ছবি পোস্ট করে বলা ‘পোস্টারিং চলছে অমুক এলাকায়’। কাজ চলাকালীন পুরো টিমের ছবি পোস্ট করে বলা ‘কাজ চলছে’। ক্যাম্পেইন শেষে ঐদিনই (সম্ভব হলে) পুরো ক্যাম্পেইনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছবিগুলো ক্রমান্বয়ে একটা ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং আকারে পোস্ট করা এবং পুরো ক্যাম্পেইনটা একটা গল্পের মতো করে বর্ণনা করা, কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা থাকলে তা গল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
• ক্যাম্পেইনের পরে সাক্ষাৎকার গুলো পোস্ট করা। ডোনেশন কালেক্ট করা ও প্রচারণার লক্ষ্যে ক্যাম্পেইনের টিজার ভিডিও পাবলিশ করা।
• সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করে ক্যাম্পেইনের নিউজ করানোর চেষ্ট করা। কোনো গণমাধ্যমে ক্যাম্পেইনের নিউজ আসলে তা পেজ থেকে শেয়ার করা।
• ইমপ্যাক্ট যাচাই: প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার, মানুষের প্রশংসা, আগের অবস্থা ও পরের অবস্থা তুলনা – যেমন থার্টি ফার্স্ট নাইট বিরোধী ক্যাম্পেইনের পর ৩১ ডিসেম্বর উপলক্ষে এলাকায় ডিজে পার্টি, গান-বাজনা ইত্যাদি কমেছে কিনা, অ্যান্টি ভ্যালেন্টাইন ক্যাম্পেইনের পর ভ্যালেন্টাইন ডে’তে এলাকার পার্ক, মাঠ, ঘোরার মত জায়গাগুলোয় ছেলে-মেয়েদের আনাগোনা কমেছে কিনা। ক্যাম্পেইনের পজেটিভ ইমপ্যাক্টগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা।
• পুরো ক্যাম্পেইনের কাজ, ইমপ্যাক্ট ইত্যাদি নিয়ে শর্ট ভিডিও/ডক্যুমেন্ট তৈরি করে তা ডোনেশন সংগ্রহ, ইউনিটের প্রচার ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করুন
বিশেষ নির্দেশনা
● প্রোগ্রামের অন্তত ২ দিন আগে প্রিন্টিং সংক্রান্ত কাজ কনফার্ম করে রাখুন।
● সমস্ত ম্যাটেরিয়ালস প্রোগ্রামের আগের দিন রাতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
● বিকল্প প্রচার কৌশল (backup): যদি পোস্টারিং কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় (বৃষ্টির কারণে, কারও আপত্তিতে), তাহলে কি হবে তার বিকল্প চিন্তা করে রাখুন। যেমন:
○ গুরুত্বপূর্ণ স্থান, রাস্তার মোড় বা মসজিদের বাইরে লিফলেট বিতরণ
○ ডিজিটাল পোস্টার প্রচারণা - Facebook পোস্ট, স্টোরি ইত্যাদি
● ক্যাম্পেইনের যাবতীয় খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখা, ক্যাম্পেইন শেষে অডিট করে সকল হিসাব মিলিয়ে নেয়া, বাজেট ক্রস করল কিনা তা যাচাই করা এবং পরবর্তী ক্যাম্পেইনের বাজেট নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ইস্যু কীভাবে এড়ানো যায় তা নির্ধারণ করা।
● পোস্টারিংয়ের পরে টিম মিটিং ও ইনকুয়েস্ট করুন: ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণ হলো কি না, কোথায় কোথায় ভুল হয়েছে, কোন কাজটা কীভাবে করলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যেত, কোন জায়গায় পোস্টার বেশি টিকে থাকল, কোথায় খুলে ফেলা হলো—এসব তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী পোস্টারিং কৌশলে কাজে লাগানো যেতে পারে। ইনকুয়েস্ট কী, কেন, কীভাবে সে সম্পর্কে জানতে হ্যান্ডবুক-০২ তে আলোচিত ইনকুয়েস্ট প্রবন্ধটি পড়ুন।
সমন্বয় ও স্কেল-আপ প্ল্যানিং ( প্রধান সমন্বয়ক)
○ বড় ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে আন্তঃ-ইউনিট সমন্বয়: যদি একাধিক ইউনিট সমন্বয় করার মাধ্যমে পোস্টারিং করা হয়, তাহলে একজন জোনাল/ডিভিশনাল সমন্বয়কারী নির্ধারণ করতে হবে। প্রতি ইউনিটে যেমন একজন প্রধান সমন্বয়কারী থাকে, ঠিক সেভাবে ১০টি ইউনিট একত্রে কাজ করলে সবগুলো ইউনিটের তত্ত্বাবধানের জন্য একজন প্রধান সমন্বয়কারী থাকবে। সে সকল ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়, ফলোআপ ও রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। ইউনিটের সমন্বয়কারীরা জোনাল সমন্বয়কারীকে রিপোর্ট করবে।
○ ডেডিকেটেড সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ/কমিউনিকেশন চ্যানেল: এক্ষেত্রেও তড়িৎ সমন্বয়, নির্দেশনা ও মিডিয়া/ফাইল শেয়ারিংয়ের জন্য একটি আলাদা কমিউনিকেশন চ্যানেল ব্যবহার করা যেতে পারে। সেটা হতে পারে টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ।

চেকলিস্ট

return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (